মেয়াদ শেষের ১৫ দিন আগে বন্ধ কয়লা উত্তোলন

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২১, ২২:৩০

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে খনি কর্তৃপক্ষের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিন আগেই হঠাত্ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লা উত্তোলন। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন খনিতে কর্মরত ৬০০ বাংলাদেশি শ্রমিক।

খনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ কয়লা উত্তোলন করেছে এবং খনির অভ্যন্তরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় কয়লা উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন চুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর আগামী দেড় মাসের মধ্যেই কয়লা উত্তোলন শুরু হবে।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী কামরুজ্জামান খান বলেছেন, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএমসি-এক্সএমসির সঙ্গে গত ২০১৫ সালে ৩২ লাখ টন কয়লা উত্তোলনের চুক্তি করে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ। ছয় বছরের এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১০ আগস্ট। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ১৫ দিন আগেই গত ২৫ জুলাই কয়লা উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএমসি-এক্সএমসি।

সম্প্রতি খনি এলাকার ভেতরে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনার সংক্রমণ। গত ২৪ জুলাই ১৩ জন এবং পরদিন ২৫ জুলাই করোনায় আক্রান্ত হন সাত জন। তাঁদের অধিকাংশই চীনা নাগরিক। হঠাত্ কয়লা উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে এটিই প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন খনিসংশ্লিষ্টরা।   

খনিশ্রমিকদের অভিযোগ, খনির অভ্যন্তরে করোনার বিধিনিষেধ দিয়ে তাদের দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ রেখে কয়লা উত্তোলনের কাজ করে আসছিল। এক্ষেত্রে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অমানবিক                আচরণের অভিযোগও করেন তারা। আগাম কোনো নোটিশ ছাড়াই শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে খনি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ খনিতে কর্মরত বাংলাদেশি  শ্রমিকদের। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ভেতরে থাকার পর খনির ভেতর থেকে সব শ্রমিক বের হয়ে এসেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিকেরা বলেন, করোনার সংক্রমণ রোধে ভেতরে দীর্ঘদিন তাদের অমানবিক অবস্থায় অবরুদ্ধ রাখা হয়েছিল। আত্মীয়স্বজন অসুস্থ কিংবা মারা গেলেও আমাদের বাইরে আসতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু খনির কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে নামেমাত্র বিধিনিষেধ থাকায় ভেতরে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।