আগস্টেই সাড়ে ১২ হাজার চিকিত্সক-নার্স নিয়োগ

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২১, ২২:৩৩

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় চিকিত্সা খাতে সেবা বাড়াতে আগামী আগস্ট মাসেই নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন সাড়ে ১২ হাজার চিকিত্সক ও নার্স। এর মধ্যে ৪২তম বিসিএস থেকে নিয়োগ পাবেন ৪ হাজার চিকিত্সক। গত মার্চে জারিকৃত সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বাকি সাড়ে ৮ হাজার নার্স নিয়োগের সুপারিশ করবে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। চিকিত্সক নিয়োগের ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে পরীক্ষার্থীদের। অন্যদিকে মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই নার্স নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন ইত্তেফাককে বলেন, বিধি মোতাবেক চিকিত্সক-নার্স নিয়োগের সুপারিশ করবে কমিশন। আশা করছি আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে নিয়োগের সুপারিশ সম্পন্ন করতে পারব আমরা।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতে দ্রুত সাড়ে ১৭ হাজার নিয়োগ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে ২ হাজার চিকিত্সক, ৪ হাজার নার্স, ৪০৯ জন জুনিয়র কনসালট্যান্ট এবং ১১ হাজার টেকনোলজিস্ট পদ রয়েছে। করোনা পরিস্থিতির অবনতিতে স্বাস্থ্য খাতে জনবলসংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চিকিত্সকসংকট চরমে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালগুলোতে পদ থাকা সত্ত্বেও প্রায় সাড়ে ১১ হাজার পদে কোনো চিকিত্সক নিয়োগ করা হয়নি। এর আগে ২০১৯ সালে ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে প্রথম ধাপে সাড়ে ৪ হাজার এবং ২০২০ সালে মে মাসে আরো অতিরিক্ত ২ হাজার চিকিত্সক নিয়োগ দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকরা কর্মস্থলে যোগদান করেছেন।

এরপর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে এবং চলমান কোভিড পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার নতুন করে পরীক্ষা নিয়ে ২ হাজার চিকিত্সক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তারই অংশ হিসেবে ২০২০ সালের ৭ ডিসেম্বর ৪২তম বিশেষ বিসিএসের সার্কুলার প্রকাশিত হলে সাড়ে ৩১ হাজার আবেদনপত্র জমা পড়ে। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রিলিতে ৬ হাজার ২২ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। গত ৬ জুন মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়। কিন্তু কোভিড পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় গত ২৪ জুন পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ৪২তম বিসিএস থেকে আরো ২ হাজার চিকিত্সক পদ সৃজন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে শূন্যপদের চাহিদাপত্র কমিশনেও পাঠানো হয়েছে। মৌখিক পরীক্ষা চলমান থাকায় মৌখিক ছাড়া কোনোভাবেই চিকিত্সক নিয়োগের সুপারিশ করার সুযোগ নেই পিএসসির।  আগামী ১০ আগস্ট থেকে ৪২তম বিসিএসের স্থগিত ভাইভা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ভাইভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বলা হলেও তা আরো এগিয়ে আনা হবে। সর্বোচ্চ ১০ দিনের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষার কার্যক্রম শেষ করে ঐ বিসিএস থেকে ৪ হাজার চিকিত্সক নিয়োগের সুপারিশ করার পরিকল্পনা করেছে কমিশন। 

ভাইভা ছাড়াই সাড়ে ৮ হাজার নার্স নিয়োগ :করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সরকারি হাসপাতালে সেবার মান বাড়াতে ৮ হাজার ৫৩৪ জন নার্স নিয়োগ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যে সরকার পিএসসিকে আবেদনকৃত প্রার্থীদের মধ্য থেকে ৮ হাজার ৫৩৪ জন নার্স নিয়োগের চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে। মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই নার্স নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। গত বছরের এক মার্চ এক বিজ্ঞপ্তিতে ২ হাজার ৫৩৪ জন বিজ্ঞপ্তিতে সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের কথা জানানো হয়। পরে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি হলে সেই বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করা প্রার্থীদের মধ্য থেকে ৪ হাজার নার্স নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জানুয়ারি সিনিয়র স্টাফ নার্স পদের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এমসিকিউয়ের প্রকাশিত ফলাফলে উত্তীর্ণ হন ১৫ হাজার ২২৮ জন। গত ১১ জুন বিকালে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পিএসসির বিধি অনুযায়ী শূন্য পদের চেয়ে লিখিত পরীক্ষায় কম পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হলে মৌখিক পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। ফলে সিনিয়র স্টাফ নার্স পরীক্ষার ক্ষেত্রে এমনটাই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পিএসসির সংশ্লিষ্টরা।