শরীয়তপুরে স্ত্রীকে হত্যা করে থানায় স্বামীর আত্মসমর্পণ

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২১, ২২:৩৪

শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর পালং এলাকায় রাজিয়া সুলতানা (২৮) নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করেছেন স্বামী আরিফ মুন্সি (৪০)। এরপর তিনি সদরের পালং মডেল থানায় গিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। পুলিশ ঐ যুবককে আটক করেছে। রাজিয়ার লাশ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গতকাল বুধবার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।

পালং মডেল থানা সূত্র জানায়, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর পালং এলাকার আবুল কালাম হাওলাদরের মেয়ে রাজিয়া সুলতানার ১৫ বছর আগে বিয়ে হয় খালাতো ভাই আরিফ মুন্সির সঙ্গে। আরিফের বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার বালিয়াহাটি গ্রামে। পৌর বাস টার্মিনালে গাড়ির চাকা মেরামতের দোকান রয়েছে তার। এই দম্পতির ১৩ বছর বয়সি মেয়ে ও ১০ বছর বয়সি ছেলে রয়েছে।

পুলিশ আরো জানায়, মঙ্গলবার রাতে তাদের ভাড়া বাসার একটি কক্ষে দুই সন্তান ও আরেক কক্ষে তারা স্বামী-স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে আরিফ ইট দিয়ে স্ত্রীর মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করেন। এর ৩০ মিনিট পর তিনি পালং মডেল থানায় হাজির হন। পুলিশকে গিয়ে বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছি, আপনারা তার লাশ উদ্ধার করেন।’ তখন পুলিশ তাকে আটক করে ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে একটি কক্ষে খাটের ওপর ঐ গৃহবধূর রক্তাক্ত লাশ দেখতে পায় পুলিশ।

জানতে চাইলে পালং মডেল থানার ওসি আক্তার হোসেন বলেন, কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা পরিষ্কার নয়। ঐ গৃহবধূর স্বামী দাবি করেছেন, স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন, তাই তিনি রেগে গিয়ে এ কাজ করেছেন। আর মেয়েটির পরিবার অভিযোগ করেছে, আরিফ মাদকাসক্ত, টাকার জন্য প্রায়ই রাজিয়াকে মারধর করতেন। টাকা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যা করেছেন। মেয়েটির বাবা একটি হত্যা মামলা করেছেন। তদন্ত করে হত্যার প্রকৃত কারণ বের করা হবে।