পোপেল মিসেনগার চোখে সেই গৃহযুদ্ধের ছবি ভাসছে। বয়স কতই বা হবে, মাত্র ৯ বছর। কঙ্গোতে তখন গৃহযুদ্ধ। মা-বাবা সবাইকে হারিয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়েছিলেন ৯ বছর বয়সি পোপেল মিসেনগা। জঙ্গলে জঙ্গলে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। টানা আট দিন জঙ্গলে ছিলেন। অতটুকু বাচ্চা ছেলের জ্ঞানই বা কী। জঙ্গলে কোনো রকমে দিন কাটানো সেই ছেলেটি টোকিও অলিম্পিকের প্রেরণা। এই জুডোকার রয়েছে সংগ্রাম পোপেল মিসেনগার। টোকিওতে এরই মধ্যে লড়াইয়ে নেমেছেন। তাকে নিয়েও সংবাদমাধ্যমের আছে বাড়তি আগ্রহ। অলিম্পিক গেমসে খেলতে গেলে সাংবাদিকরা তাকে খুঁজে বের করেছেন। জানতে চাইলেন সবাই, তখন মিসেনগা প্রকাশ করলেন গৃহযুদ্ধে হারানো তার পরিবারের কথা। কে কোথায় গেল তার কোনো হদিস নেই। সেই দিনের ছবিগুলো চোখের সামনে উঠে আসতেই কাঁদলেন আর কাঁদলেন।
বললেন, ‘একটা শিশুর জন্য জীবনে পরিবার প্রয়োজন হয়। পরিবার দেখিয়ে দেয় কীভাবে চলতে হয়। আমি সেটা পাইনি। গৃহযুদ্ধ সবকিছু—পরিবার থেকে আমাকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।’ এই জুডোকা বললেন, ‘আমাকে খাঁচায় বন্দি থাকতে হতো। আমি পালিয়ে এসেছি।’
কঙ্গো হতে পালিয়ে ব্রাজিলে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন পোপেল মিসেনগার। সেখানে গিয়ে জুডোতে হাত পাকিয়েছেন। রিও অলিম্পিকে খেলেছিলেন শরণার্থী হিসেবে। এবার দ্বিতীয়বার অলিম্পিকে গেমসে খেলতে গেলেন শরণার্থী হিসেবে। টোকিওতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে বললেন, ‘জুডো আমায় জীবন দিয়েছে। শৃঙ্খলা দিয়েছে।’
