গত বুধবার (২৮ জুলাই) ছিল কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগমের জন্মদিন। এই বিশেষ দিনেই তাকে ঘিরে অনন্য এক উদ্যোগ গ্রহণ করলো তার পরিবার। এদিন ডিজিটাল আর্কাইভে তার সৃষ্টিগুলো ধরে রাখার ব্যবস্থা করা হলো! অসাধারণ ও সময়োপযোগী এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছে শিল্পীর ভাইঝি সংগীশিল্পী সুস্মিতা আনিস এবং তার পরিবার।
ফিরোজা বেগমের নামাঙ্কিত এই আর্কাইভ প্রসঙ্গে তার ভাইঝি সুস্মিতা আনিস বলেন, ‘এক ছাদের নিচে ওনার কাজগুলোকে নথিভুক্ত করা সত্যিই খুবই দুঃসাধ্য কাজ ছিল। আগামী দিনে আরো অনেক কিছু সংযোজিত হবে। ভবিষ্যতে কোনো গুণগ্রাহীর কাছে থেকে পাওয়া কোনো তথ্য, ভিডিও বা গান এই আর্কাইভে সংযোজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।’
জানা গেছে, এই ডিজিটাল আর্কাইভে থাকছে ফিরোজা বেগমের জীবনী, পুরস্কারের তালিকা ও তার নজরুলগীতি, রবীন্দ্রসংগীত, আধুনিক বাংলা গান, কাব্যগীতি, গীত ও গজল। রয়েছে গানের যাবতীয় তথ্য, রিলিজের সাল, সুরকার-গীতিকারের নামের পাশাপাশি প্রকাশক কোম্পানির নাম। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের দুর্লভ সংগ্রহ। টেলিভিশন থেকে রেডিও, মঞ্চের অনুষ্ঠান থেকে সাক্ষাত্কার আগ্রহীরা পেয়ে যাবেন এক ক্লিকে। থাকছে বিভিন্ন বাংলা, ইংরেজি পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সাক্ষাত্কার, অনুষ্ঠান সমালোচনা ও প্রতিবেদন। ফটো গ্যালারিতে রয়েছে তার একার ছবি থেকে পারিবারিক জীবন, সংগীতজীবন, বিভিন্ন দিকপালদের সঙ্গে ছবি। থাকছে তাকে ঘিরে বিভিন্ন প্রজন্মের নানা শিল্পীর কথা। এর পাশাপাশি রয়েছে হাতে লেখা নোটবুকের কপি ও চিঠিপত্র। আছে তার স্বামী প্রখ্যাত সুরকার কমল দাশগুপ্তের জীবনী, গানের খাতার প্রতিলিপি, পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন, গান ও ছবি। কমল দাশগুপ্তের সুরে ফিরোজা বেগমের বহুল প্রচলিত গানগুলোর মধ্যে ‘আমি বনফুল গো’, ‘এমনই বর্ষা ছিল সেদিন’, ‘মোর জীবনের দুটি রাতি’, ‘মাটির এ খেলাঘরে’ অন্যতম।
