বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) করোনা ওয়ার্ডের বর্জ্য বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। বিগত দুই দিন ধরেই বরিশাল জুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ইউনিটের সামনেই ফেলা রোগীদের ব্যবহূত বিপুল পরিমাণ এসব বর্জ্যে সয়লাব হয়ে গেছে পুরো ক্যাম্পাস। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বারবার কথা হলেও এই বর্জ্য পরিষ্কারের বিষয়ে এখনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। তাই করোনা রোগী ও স্বজনদের ব্যবহূত বর্জ্য করোনা ইউনিটের সামনেই ফেলা হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট এ করোনা ইউনিটের সামনে যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা করোনা ওয়ার্ডে ব্যবহূত মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লোভসসহ যাবতীয় সামগ্রী বৃষ্টিতে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব বর্জ্য মাড়িয়েই শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের রোগী ও স্বজনসহ হাসপাতালের মূল ভবনের রোগীরাও যাতায়াত করছেন। এছাড়াও করোনার নমুনা পরীক্ষা করাতে আসা লোকজনও একইভাবে যাতায়াত করছেন সেখান দিয়ে। এতে করোনা আরো ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়াও সেখান থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করতে দেখা গেছে কয়েক জনকে। বর্জ্য থেকে মালামাল সংগ্রহ করে ভাঙারি ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ এলাকায় নিয়ে বিক্রির জন্য ঢাকায় পাঠাচ্ছে। এতে করোনা সংক্রমণ আরো বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এই ইউনিটে চিকিত্সাধীন এক রাগীর স্বজনরা জানান, ইউনিটের মধ্যকার অবস্থা বলে লাভ নেই। তবে বাইরে তো একটু ভালো পরিবেশ আশা করতে পারি। কিন্তু তা নয়, বাইরে বের হলেই হাঁটতে হয় ফেলে দেওয়া মাস্ক আর হ্যান্ড গ্লোভসের ওপর দিয়ে। ইউনিটের সামনে এগুলো ভরা।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের লোকবল সংকটের কথা আগেই বলেছি। করোনা ইউনিটের ভেতরে আবর্জনা নিয়ে ঝামেলা রয়েছে, সেখানেও আমরা সাধ্যমতো কাজ করার চেষ্টা করছি। এখন সামনের ময়লা পরিষ্কার নিয়ে বড় ঝামেলা রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বর্জ্য অপসারণ করতে।
