কাপ্তাই লেকে প্রয়োজনীয় পানি বৃদ্ধি না পাওয়ায় মাছ না ধরার সময়সীমা ৩১ জুলাই থেকে আরো ১০ দিন বাড়িয়ে ১০ আগস্ট করা হয়েছে। তবে ১০ আগস্টের মধ্যেও যদি লেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি বৃদ্ধি না পায়, সেই ক্ষেত্রে পুনরায় সভা করে এই মেয়াদ আরো বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বুধবার এক জরুরি অনলাইন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএফডিসি রাঙ্গামাটির ব্যবস্থাপক নৌ কমান্ডার তৌহিদুল ইসলাম।
বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের রাঙ্গামাটি কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আজহার আলী জানান, কাপ্তাই লেকে এখন অবধি পানি না বৃদ্ধি পাওয়ায় এই মুহূর্তে মাছ ধরা শুরু হলে বিপন্ন হবে লেকের মত্স্য সম্পদ। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সঙ্গে এক অনলাইন সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, মত্স অফিস, নৌ-পুলিশ, বিএফডিসি, মত্স্য ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা। আগের ঘোষণা অনুসারে ৩১ জুলাই মধ্যরাতের পর থেকে মাছ ধরা শুরু হওয়ার কথা ছিল। বর্তমান এই সিদ্ধান্তের ফলে তা শুরু হবে ১০ আগস্ট মধ্যরাতের পর।
বিএফডিসি রাঙ্গামাটির ব্যবস্থাপক নৌ কমান্ডার তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, আপাতত ১০ আগস্ট পর্যন্ত বন্ধের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে সেটা নির্ভর করছে বৃষ্টিপাতের কারণে পানি কী রকম বাড়ছে তার ওপর। কারণ লেকে যদি ন্যূনতম ১০৩-১০৪ ফুট পানি না থাকে তবে তা মাছের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এখন পানি আছে ৮৪-৮৫ ফুট। পানি না বাড়লে এখনই মাছ ধরা শুরুর সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হবে। যদি পানি ১০৩ ফুট হয় তবে ১০ তারিখ মধ্যরাতের পর মাছ ধরা শুরু হবে। যদি তা না হয়, তবে ৮-৯ আগস্ট আবার সভা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ষাটের দশকে জলবিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য তৈরি করা কাপ্তাই বাঁধের কারণে সৃষ্ট ৩৫৬ বর্গমাইল আয়তনের জলাশয়টি ‘কাপ্তাই লেক’ নামেই পরিচিত, যা পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এই লেকে প্রায় ২৫ হাজার জেলে পরিবার মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত আছেন। যারা বছরের তিন মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকার সময়ে সরকারের ত্রাণসহায়তা পেয়ে থাকেন।
