ভারতের ত্রিপুরার সীমান্তবর্তী আখাউড়া উপজেলায় করোনার প্রকোপ দিনদিন বেড়েই চলছে। কোনোভাবে এর লাগাম টানা যাচ্ছে না। প্রথম দিকে করোনা আক্রান্ত সংখ্যা কম থাকলেও যতই দিন যাচ্ছে ততই এই সংখ্যাটি বেড়েই চলছে সীমান্তবর্তী এই উপজেলাটিতে। মহামারি করোনার মধ্যেও অকেজো হয়ে পড়ে আছে আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হাত ধোয়ার বেসিনগুলো। গত বছরের শুরুতে কিছু বেসিন স্থাপন করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা নষ্ট হয়ে গেছে। দু-একটা ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সরজমিনে জানা যায়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে হাত ধোয়ার জন্য আখাউড়ার জনসমাগম হয় এমন জায়গাগুলোতে গত বছর আটটি বেসিন নির্মাণ করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে হাসপাতাল, উপজেলা পরিষদের সামনেসহ বিভিন্ন জায়গায় ১২টি হাত ধোয়ার বেসিন বসানো হয়। করোনা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না এলেও এসব বেসিন নষ্ট হওয়ায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আখাউড়ায় নির্মিত বেসিনগুলোর কোনোটিতে পানি নেই, কোনোটিতে জমেছে শ্যাওলা ও ময়লা, নেই হাত ধোয়ার সাবানও। একই অবস্থা রেল স্টেশন জামে মসজিদের সামনে, সোনালী ব্যাংকের পার্শ্বে, মোগড়া বাজারের সামনে।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, আখাউড়ায় আটটি বেসিন বসানো হয়েছে। পৌরসভা কেন্দ্রিক পাঁচটি, উপজেলায় একটি, কর্নেল বাজারে একটি, মোগড়া বাজারে একটি বেসিন বসানো হয়েছে। ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়ে তিনি জানান, এটা আমার জানা ছিল না। খবর নিয়ে দেখব। আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আক্তার জানান, বেসিনগুলো নির্মাণ করার পর প্রতিটি বেসিনের বিপরীতে কিছু সাবান দেওয়া হয়। বেসিনে নিয়মিত সাবান রাখা হয়। কিন্তু সাবান চুরি হয়ে যায়। আবার কোথাও সাবান থাকলেও মানুষের মধ্যে এখন আর হাত ধোয়ার আগ্রহ নেই। তবে আমাদের পক্ষ থেকে সব সময় মানুষকে সচেতন করে যাচ্ছি।
