কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে দেড় বছরে পানিতে ডুবে ১৪ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনের দাবি, সচেতনতার পাশাপাশি সাঁতার না জানার কারণে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানিতে ডুবে বেশি মারা যাচ্ছে শিশুরা। অন্যদিকে, কিছু নৌকাডুবির কারণেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের তাজুল ইসলাম জানান, পরিবারের সদস্যদের অগোচরেই বাড়ির পাশে একটি ডোবার পানিতে ডুবে তার দেড় বছরের কন্যার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, আমাদের একটু অবহেলার কারণে আমার সন্তানকে হারিয়েছি। তাই নিজেদের সন্তানের প্রতি সবাইকে সচেতন হতে পরামর্শ দেন তিনি।
নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার বলেন, শিশুদের বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে লালন-পালন করার দায়িত্ব বাবা-মাসহ পরিবারের সবার ভূমিকা পালন করতে হবে। আমাদের বাড়ির আশপাশে অনেক পুকুর-ডোবা-নালা রয়েছে। তাই শিশুদের বাড়িতে একা খেলতে দেওয়া বা ছেড়ে দেওয়া যাবে না। বাবা-মা সচেতন হলেই পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা অনেকাংশে কমে যাবে বলে মনে করেন তিনি।
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজীব কুমার রায় জানান, ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২১ সালের চলতি মাসের ২৭ জুলাই পর্যন্ত এ উপজেলায় ১৪ শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে। তিনি আরো জানান, বিশেষ করে অভিভাবকরা সচেতন হলেই পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা শূন্যের কোঠায় আসবে বলে আমার বিশ্বাস। এই বিষয়ে ফুলবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রোস্তম আলী বলেন, অন্য উপজেলার তুলনায় ফুলবাড়ীর ভৌগোলিক অবস্থা ভিন্ন। এই উপজেলায় নদ-নদীর পাশাপাশি অসংখ্য বিল-ছড়া, পুকুর, ডোবা রয়েছে। তাই উপজেলায় পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার একটু বেশি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পারিবারিক সচেতনতার অভাব ও সাঁতার না জানায় পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তবে এই বিষয়ে আমরা বিভিন্ন সময় সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তবে এই বিষয়ে অভিভাবকদেরকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে।
