ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ২১:৪২

করোনা মহামারির মধ্যেই দেশে মারাত্মক ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় কী করণীয়

সে সম্পর্কে পাঠকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের মতামত আজ প্রকাশিত হলো

কোভিড-১৯ সংক্রমণের ভয়াবহ তাণ্ডবের মধ্যে ডেঙ্গুর চোখ রাঙানি মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। আমাদের অসচেতনতা এবং দফায় দফায় লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিনের টানা বন্ধে অনেক পরিত্যক্ত স্থান এডিস মশার নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র হিসেবে কাজ করছে। নিয়ন্ত্রণহীন করোনা রোগীর ভিড়ে নাজুক হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিত্সাসেবা দিতে কতটা সক্ষম তা অবশ্যই দুর্ভাবনার বিষয়। এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করার মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সাধারণ মানুষের সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ একান্ত আবশ্যক।

আবু ফারুক

বনরুপাপাড়া, সদর, বান্দরবান

কোভিড-১৯-এর ডেলটা ধরনের তীব্র প্রকোপের মধ্যেই বর্ষার আগমনে ফের ডেঙ্গু প্রাণঘাতী হয়ে জনজীবনে নতুন সংকটের উত্তাপ ছড়াচ্ছে। এটি মশাবাহিত ভাইরাস জ্বর হওয়ায় এর বাহক এডিস মশার বংশবৃদ্ধি রোধের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা যায়। সে লক্ষ্যে অপ্রয়োজনীয়ভাবে পানি জমে থাকতে পারে, এমন ধরনের জিনিসপত্র বসতবাড়ির ভেতর-বাইরের আশপাশের জায়গা থেকে অপসারণ করা জরুরি। এডিস মশার ডিম নির্মূলের লক্ষ্যে ব্যবহূত গৃহস্থালি পাত্রসমূহ ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার করে রাখতে হবে। অব্যবহূত পানির পাত্রের সম্মুখভাগ উলটো করে রেখে দিতে হবে। শয়নকালীন দিন-রাত নির্বিশেষে মশারির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে সকাল-সন্ধ্যায় গৃহকক্ষে মশা নিরোধক উপকরণের প্রয়োগ ঘটাতে হবে। এছাড়া ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থা ও বেসরকারি পর্যায়ে গৃহীত উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় সাধন অপরিহার্য। সর্বোপরি, ডেঙ্গুর কার্যকর প্রতিরোধে ব্যক্তিগত-পারিবারিক করণীয় নির্ধারণ ও সামষ্টিক দায়িত্ববোধ সৃষ্টিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা সমধিক প্রয়োজন।

ওয়ারেছ আলী খান

উপজেলা সদর, নরসিংদী

করোনার ভয়ে যখন পুরো দেশ আতঙ্কে তখন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি সামনে আরো ভয়াবহ হতে পারে। যে কারণে এখনই ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে।

মো. ইফতেখার হোসাইন লিটন

মিরপুর-১, ঢাকা

জলাবদ্ধতায় এডিস মশার বিস্তার বেশি ঘটে যা ডেঙ্গু ছড়ায়। আমাদের রাজধানীতে সামান্য বৃষ্টি নামলেই বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে। সেই জমে থাকা পানিতেই এডিস মশার প্রজনন হয়। করোনা মহামারির পাশাপাশি যদি বিস্তার ডেঙ্গুর ঘটে তাহলে আমাদের অবস্থা হবে ভয়াবহ।

সাইফুল ইসলাম তানভীর

গুলশান, ঢাকা

সারা দেশ একদিকে যখন করোনা ভাইরাসের ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের ঢেউ মোকাবিলা করছে, অন্যদিকে তখন ডেঙ্গু রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। বর্তমানে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার উত্পাতে অতিষ্ঠ ঢাকাবাসী। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই ঝাঁকে ঝাঁকে মশার উত্পাত শুরু হয়। মশার যন্ত্রণায় মশার কয়েল স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। গরম ও শীতের সময় মশা নিধনে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় মশা এখন বেপরোয়া। দুই বছর আগে মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বর এবং তার আগে চিকুনগুনিয়া ব্যাপক আকারে দেখা দিয়েছিল। এখন করোনা মহামারির মধ্যে ডেঙ্গু আতঙ্ক ভর করছে, যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। ইতিমধ্যে অনেকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। সরকারের সেবাদানকারী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী উদ্যোগ না থাকায় ঢাকায় বসবাসকারীদের মশার উপদ্রব সহ্য করতে হচ্ছে। আগে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হতো, বর্তমানে এ ধরনের কিছু চোখে না পড়ায় নগরবাসী উদ্বিগ্ন। ফলে মশার বংশবৃদ্ধির সুযোগও অবারিত। মশার জন্ম রোধের ব্যবস্থা মশার উপদ্রব নিবারণের জন্য সর্বোত্তম করণীয়। করোনা মহামারির মধ্যে মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগের ঝুঁকি কমাতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, অন্যথায় বিগত বছরের ন্যায় এ বছরও নগরবাসীকে ডেঙ্গু জ্বর মোকাবিলায় চরম মূল্য দিতে হবে।

মো. জিল্লুর রহমান

গেন্ডারিয়া, ঢাকা

করোনা আর ডেঙ্গু একসঙ্গে হলে পরিস্থিতি মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে! দুটি রোগেই চিকিত্সার চাইতে প্রতিরোধ উত্তম। তাই নিজেকে ও পরিবারকে রক্ষা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির ভেতর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে, কোথাও পানি জমতে দেয়া যাবে না। দিনে ও রাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি করোনা প্রতিরোধে বারবার হাত ধোয়া, মাস্ক পরা সর্বোপরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে যতটা সম্ভব বাড়িতে থাকার চেষ্টা করাই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উপায়।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

পার্বতীপুর, দিনাজপুর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো অবশ্যই জরুরি। এডিস মশা যেসব জায়গায় বংশ বিস্তার করে সেগুলোর দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। বাসাবাড়িতে মশক নিধন কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে। একমাত্র সচেতনতাই পারে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে।

আইরিন সুলতানা মনজু

মাইজপাড়া, চট্টগ্রাম

বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার বংশ বিস্তার ও ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব আমরা অনেক দিন ধরেই দেখে আসছি। নির্মিত/নির্মাণাধীন ভবনের আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে। ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পানির বোতল, ভবনসংলগ্ন বাগানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার পাশাপাশি এসির আউটলেটে ও ফ্রিজের নিচে জমা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে।

শিশির

পিলখানা, ঢাকা

দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এডিস মশা কামড়ালে ডেঙ্গু হয়। ঘরেবাইরে পানি জমলেই এই মশা ডিম পাড়ে। তাই, এই রোগ থেকে বাঁচতে হলে ঘরেবাইরে কোথাও যেন পানি না জমে সেদিকে নজর রাখতে হবে। দিনেরাতে মশারি টানাতে হবে। সর্বোপরি আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

সুলতানা জামান

মানিকনগর, ঢাকা

করোনা মহামারির মধ্যেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। বর্ষাকালে যেন এডিস মশার বিস্তার ঘটতে না পারে সেজন্য মশার উত্পত্তিস্থলে লার্ভা ধ্বংস করে দিতে হবে। যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জানার স্তূপ করা যাবে না। নিয়মিত মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে। ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে যথাসম্ভব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী

প্রতি বছর বর্ষা এলেই আমাদের দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ঢাকা শহরে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এমনিতেই করানোর সংক্রমণ এবং মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতিতে দেশের চিকিত্সাব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে এডিস মশার প্রাদুর্ভাব আরো বাড়তে থাকলে চিকিত্সার অভাবে দেশের মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে। তাই ডেঙ্গুর প্রকোপ কমানো জরুরি। এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র আগে ধ্বংস করতে হবে। বাসাবাড়ির আঙ্গিনায়, টায়ার টিউবে, ফুলের টব বা বাসাবাড়ির ছাদে জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে। নির্মাণাধীন ভবন, রাস্তার পাশে ডাবের খাসো ও পলিথিনে জমে থাকা পানি সরাতে হবে। প্রত্যেকটি হাসপাতালে আলাদাভাবে ডেঙ্গু রাগের ইউনিট চালু করা জরুরি। ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতার বিকল্প নেই।

কামরুজ্জামান

শ্রীপুর, গাজীপুর

দেশব্যাপী সংক্রমণ ছড়াচ্ছে করোনার ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট। অন্যদিকে ডেঙ্গু জ্বরের এডিস মশার উপদ্রব বেড়েই চলেছে। প্রতিদিনই এ মশার কামড়ে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। তাই ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে মশা নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। আর এটাও ঠিক, মানুষ সচেতন না হলে শুধু সরকারি কার্যক্রমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।

অ্যাডভোকেট এস কে মো. রমিজ উদ্দিন

মিরপুর, ঢাকা

করোনা মহামারির মধ্যেই বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব। বর্ষা মৌসুমে আমাদের দেশে এই ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বাড়ির আশেপাশের নালা, ডোবাসহ বিভিন্নস্থান পরিষ্কার রাখতে হবে। দিনে ও রাতে ঘুমানোর সময় মশারি টাঙাতে হবে।

মাসুম আহমেদ

যাত্রাবাড়ি, ঢাকা

দেশে এডিসবাহিত ডেঙ্গু রোগ ক্রমেই বাড়ছে। সেজন্য মশা নিধনে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। স্থানীয় সরকার ও মন্ত্রণালয়কে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)

আরপপুর, ঝিনাইদহ

করোনা মহামারির মধ্যেই দেশে এই মুহূর্তে ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ ধারণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। তাই এখনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা একান্ত জরুরি।

মো. মামুন

বংশাল, ঢাকা

দেশে করোনা সংক্রমণ এখন সর্বোচ্চ চূড়ায়। প্রতি দিন বেড়ে চলেছে করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। আবার, এরই মধ্যে নতুন করে বেড়েছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি দেখা দেয়। বৃষ্টির পানিতে বাসাবাড়ির ছাদে, ড্রেন, ফুলের টবে, আসবাব কিংবা পরিত্যক্ত টায়ারে পানি জমে থাকে। ফলে সেখানে এডিস মশা ডিম পাড়ে ও বংশ বিস্তার করে থাকে। তাই এ সমস্ত বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

কবি আল মায়ামী

ফুলবাড়িয়া, সাভার