করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও সচল রয়েছে দেশের কৃষি খাতের উত্পাদন। এজন্য এ সময় কৃষকের বেশি ঋণ দরকার। তবে বাস্তবে সঠিক সময়ে ঋণ পাননি কৃষকেরা। অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, চলতি অর্থবছরে ঋণের সংকট হবে না। গতকাল চলতি (২০২১-২২) অর্থবছরে কৃষকদের জন্য ২৮ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা ঋণ বরাদ্দ রেখেছে ব্যাংকগুলো, যা গেল অর্থবছরের চেয়ে ৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ বেশি। ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮ শতাংশ করা হয়েছে। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৬ হাজার ২৯২ কোটি টাকা ঋণ বরাদ্দ ছিল।
বৃহস্পতিবার নতুন অর্থবছরের জন্য কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা এবং কর্মসূচি প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ। এছাড়া সমবায় ব্যাংকের মাধ্যমে ২৫ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড ১ হাজার ৬২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করবে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে মোট ঋণের আড়াই শতাংশ কৃষি খাতে দিতে হবে।
পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলে জনসাধারণের খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে উদ্ভূত সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং কৃষকদের কাছে কৃষিঋণ সহজলভ্য করার লক্ষ্যে বর্তমান নীতিমালা ও কর্মসূচিতে বেশ কিছু সময়োপযোগী বিষয় যুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এগুলো হলো :সোনালি মুরগি, মহিষ ও গাড়ল পালনের জন্য ঋণ দেওয়া হবে। একরপ্রতি ঋণসীমা কৃষকদের প্রকৃত চাহিদা ও বাস্তবতার নিরিখে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি বা হ্রাস করা যাবে। মাছ চাষের ক্ষেত্রে একরপ্রতি ঋণসীমা বৃদ্ধি করা এবং ব্যাংক কর্তৃক বিতরণকৃত ঋণের তদারক অধিকতর জোরদারকরণের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ নীতিমালায় বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে সরকারি বাণিজ্যক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে ১১ হাজার ৪৫ কোটি টাকা ঋণ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরে এসব ব্যাংকের ঋণের অঙ্ক একই ছিল। বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ১৭ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরে এসব ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার লক্ষ্য ছিল ১৫ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা।
তথ্যে দেখা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো ২৫ হাজার ৫১১ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লি ঋণ বিতরণ করেছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ২৬ হাজার ২৯২ কোটি টাকার প্রায় ৯৭ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। এ সময় মোট ৩০ লাখ ৫৫ হাজার ১৬৬ জন কৃষক ঋণ পেয়েছেন, যার মধ্যে ব্যাংকগুলোর নিজস্ব নেটওয়ার্ক ও এমএফআই লিংকেজের মাধ্যমে ১৬ লাখ ৫ হাজার ৯৪৭ জন নারী প্রায় ৯ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছেন। ঐ অর্থবছরে ২২ লাখ ৪৫ হাজার ৫১২ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ১৭ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকা এবং চর, হাওর প্রভৃতি অনগ্রসর এলাকার ৭ হাজার ৭৯৬ জন কৃষক প্রায় ৩৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা কৃষি ও পল্লি ঋণ পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় কৃষি খাতে চলতি মূলধন সরবরাহের উদ্দেশে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন স্কিম পরিচালিত হচ্ছে। স্কিমের আওতায় ৪ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া সুদ-ক্ষতি সুবিধার আওতায় তেল ও মসলা জাতীয় ফসল ও ভুট্টা ছাড়াও শস্য ও ফসল খাতে স্বল্প সুদে (৪ শতাংশ হারে) কৃষকদের ৪ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
