ভাঙ্গায় গভীর রাতে ১ মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে ৪০ ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ২২:২১

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের চুমুরদী গ্রামে বুধবার দিবাগত গভীর রাতে ১ মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে গ্রামটি লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ২০টি পরিবারের প্রায় ৪০টির অধিক পাকা ঘর, আধাপাকা ঘর, টিনের ঘর ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসময় উক্ত এলাকার সহস্রাধিক গাছপালা উপড়ে যায়। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম হাবিবুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিমউদ্দিন খান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজিব আহম্মেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি চাল ও নগদ ১ হাজার টাকা তাত্ক্ষণিক প্রদান করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিমউদ্দিন জানান, ঘূর্ণিঝড়টি মাত্র ১ মিনিটের মধ্যে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়ে গ্রামটিকে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে আমরা ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করে পরে এদেরকে সাহায্যর ব্যবস্থা করব।

জানা যায়, রাতে গ্রামের লোকজন ঘুমিয়ে পড়লে গভীর রাতে ঘূর্ণিঝড়টি ঐ এলাকার প্রায় ১ কি.মি. এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এসময় ঘরের চাল আকাশে উড়িয়ে নেওয়াসহ বড় বড় গাছ পাকা-আধাপাকা ঘরের ওপর পড়ে। এতে অনেকেই গাছের নিচে চাপা পড়ে। বাতাসের বেগে মেহগনি, চাম্বুল, সুপারি, বাঁশঝাড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির সহস্রাধিক গাছপালা উপড়ে যায়। ঝড়ের তাণ্ডরের পর ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জনতা রাতভর উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হলো, পলাশ মোল্লা, শওকত মোল্লা, মজিবর সেক, ইমাম মজিবর, হাফিজুর মোল্লা, নজরুল মাতুব্বর, মাসুদ মাতুব্বর, অপু মাতুব্বর, হাফিজ মাতুব্বর, সোলাইমান মাতুব্বর, সালাম ফকির, বেল্লাল ফকির, কালাম সেক, শামচু মোল্লা, জাকির মোল্লা, সেন্টু মোল্লা, নান্নু তালুকদার, লিঠু সেক।

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইঞ্জিনিয়ার অপু আহম্মেদ বলেন, রাত ১ টার সময় হঠাত্ করেই বিকট শব্দে গাছপালা ভাঙার শব্দ পেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে দেখি, আমাদের টিনের ঘরটি মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে গ্রামের অনেক ঘরবাড়ি আকাশের দিকে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ভয়ে আমরা সকলেই চিত্কার শুরু করি। এসময় প্রতিটি ঘরের চাল উড়িয়ে কুমার নদী পার হয়ে প্রায় ১ কি.মি. দূরে বিলের মধ্যে নিয়ে যায়। বেশ কয়েকটি ঘরের ওপর বড় বড় গাছ পড়ায় অনেকে আটকা পড়ে যায়। ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয় জনতা দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে সকলকে উদ্ধার করে। সর্বশেষ রাত ৩টার দিকে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া জানজিলাকে (৯) অনেক চেষ্টার পর গাছের নিচ থকে উদ্ধার করা হয়।

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত আবুল খায়ের বলেন, ‘আমি ঘরে বসে ছিলাম হঠাত্ বিকট শব্দ শুনে ঘরের বাইরে আসি। এসময় আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি সমস্ত ঘরের বেড়া ও চাল গাছপালা আকাশে উড়ছে। আমি চিত্কার দিয়ে সাহায্যের জন্য বিভিন্ন দিকে ছুটোছুটি করি। আশপাশের গ্রামবাসী ছুটে এসে উদ্ধার করা শুরু করে।

চুমুরদী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নাছিম সিকদার মিলন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, অতীতে এমন ভয়াবহ ঝড় আমরা কখনো দেখি নাই। ঝড়ের তাণ্ডবে সব ঘর ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। প্রতিটি ঘর নতুন করে তৈরি করতে হবে। সরকারসহ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানান।