ডায়াবেটিস, হূদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগগুলো প্রতিরোধে শরীরচর্চা, কায়িক পরিশ্রম এবং তাজা শাকসবজি গ্রহণ জরুরি। শরীরচর্চার পরিবেশ, তাজা শাকসবজির ফলমূলের জোগান নিশ্চিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় সরকারের বিদ্যমান আইনে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে একটি নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি বলে জানান সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ‘অসংক্রামকরোগ প্রতিরোধে শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিতে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা’ শীর্ষক ওয়েবিনারে জনস্বাস্থ্য নীতি বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। ‘সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ) এবং আর্ক ফাউন্ডেশন’ যৌথভাবে এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও মেয়র এলায়েন্স ফর হেলদি সিটির আহ্বায়ক গাজী কামরুল হুদা সেলিম বলেন, এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের অসংক্রামক রোগজনিত মৃত্যু ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনতে হবে। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকারকে এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। স্থানীয় সরকার আইনে কায়িক পরিশ্রম ও শরীরচর্চার পরিবেশ সৃষ্টির বিষয়াদি নিশ্চিতে আইনে সুনির্দিষ্ট বিধান যুক্ত করা প্রতিটি জেলা, উপজেলা ইউনিয়নের খাস জমি খেলার জন্য সংরক্ষণ ও বরাদ্দ রাখা। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত করা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ও আর্ক ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, চিকিত্সা ব্যবস্থার চেয়ে রোগ প্রতিরোধে আমাদের বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। অসংক্রামক রোগের চিকিত্সা অত্যন্ত ব্যয় বহুল। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন এবং কায়িক পরিশ্রমের মাধ্যমে আমাদের অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করতে হবে। এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য খরচ ও মৃত্যু কমবে এবং সর্বপরি দেশের অর্থনীতিতে একটি বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। পরিশেষে তিনি অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কায়িক পরিশ্রম নিশ্চিত করনে স্থানীয় সরকার কর্তৃক নীতিমালা প্রণয়ের আহ্বান জানান।
মূল প্রবন্ধে আইনজীবী সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, সিএলপিএ এবং আর্ক ফাউন্ডেশনের তাজা শাকসবজি গ্রহণ সংক্রান্ত গবেষণায় দেখা গেছে ১১টি মন্ত্রণালয়ের ৩১টি আইনে ও নীতিমালায় তাজা শাকসবজি জোগানের বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। বাংলাদেশের জনসংখ্যা ৮৯.৬ শতাংশ প্রতিদিন প্রয়োজনীয় ৫ ধরনের ফল ও সবজি গ্রহণ করে না। অথচ প্রতি বছর পর্যাপ্ত পরিমাণ সবজি ও ফল গ্রহণ করানো সম্ভব হলে ২.৭ মিলিয়ন মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প ব্যবস্থাপক হামিদুল ইসলাম হিল্লোনের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য দেন জাইকার এনসিডি-বিষয়ক পরামর্শক ড. বরেন্দ্রনাথ মণ্ডল, প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠনের হেলাল আহমেদ, সিয়াম-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট মাসুম বিল্লাহ, সুশাসন ফাউন্ডেশনের কনক মজিবুদৌল্লাহ, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট-এর পরিচালক গাউস পিয়ারী, ব্যারিস্টার নিশাদ মাহমদু প্রমুখ।
