ওমর ফারুক নামের এক সৌদি প্রবাসী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) টিকাদান কেন্দ্রে এক দিনেই তিন ডোজ টিকা নিয়েছেন বলে দাবি করার পর তাকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভুঁইঘর এলাকার বাসিন্দা। ওমর ফারুকের বোন ফারজানা আক্তার জানান, সন্ধ্যায় তার ভাই মোবাইল ফোনে কল করে জানিয়েছেন, তিনি বিএসএমএমইউয়ের শেখ ফজিলাতুন্নেছা কনভেনশন সেন্টারে ভর্তি রয়েছেন। টিকা নেওয়ার পর তার জ্বর, সর্দি, কাশি কিংবা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি।
এদিকে ওমর ফারুক আদৌ টিকার তিন ডোজ নিয়েছেন কি না তা খতিয়ে দেখতে মেডিসিন বিভাগের এক অধ্যাপকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিএসএমএমইউর পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, উপাচার্য ও তিনি গতকাল সকালে ওমর ফারুকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিন ডোজ টিকা নেওয়ার কথা বললেও তার হাতে কোনো চিহ্ন নেই। সাধারণত এক ডোজ টিকা নিলেই সামান্য জ্বর, সর্দি কিংবা কাশি হতে পারে। কিন্তু তার ভাষ্য অনুযায়ী তিন ডোজ দিয়ে টিকা নেওয়ার পরও তার কোনো ধরনের জ্বর-সর্দি-কাশি নেই। এই যুবক মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ কারণে তিন সদস্যের কমিটিতে একজন মানসিক বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।
গত মঙ্গলবার ওমর ফারুক একটি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাত্কারে জানান, তিনটি বুথ থেকে তাকে তিন বার টিকা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ বুধবার ঐ যুবকের বক্তব্য ঠিক নয় বলে দাবি করে।
গত বুধবার খবর রটে কিছু লোক ওমর ফারুককে তুলে নিয়ে গেছে। ওমর ফারুকের বাড়িতে গিয়ে এলাকাবাসীর ভিড় দেখা যায়। তারা জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের টিমের পরিচয় দিয়ে বাড়ি থেকে ওমর ফারুককে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্বজনরা জানান, বুধবার দিনভর নিখোঁজ থাকার পর সন্ধ্যায় ওমর ফারুক তার বাবা ও মায়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছে।
ওমরের বোন ফারজানা আক্তার জানান, ওমর ফোনে বলেছে, সে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে এবং তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম পরিচয়ে ওমর ফারুককে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার যে দাবি পরিবার করেছে, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, ‘নারায়ণগঞ্জ থেকে ওমর ফারুককে কারা নিয়ে গেছে আমাদের জানা নেই। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে রয়েছেন বলে জানা গেছে’।
