চট্টগ্রামে মুমূর্ষু মাকে আইসিইউ বেড থেকে সরিয়ে সেখানে ভর্তি করানো হলো ছেলেকে। এর কয়েক ঘণ্টা পরই মারা গেলেন মা। মায়ের সেই বেডেই এখন চিকিত্সা চলছে করোনা আক্রান্ত ছেলের। গত মঙ্গলবার এই ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে। মৃত মা ও চিকিত্সাধীন ছেলের নাম প্রভা রাণী পাল ও শিমুল পাল। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায়। এছাড়া একই হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে পাশাপাশি বেডে চিকিত্সাধীন বাবা ও ছেলে মারা যান ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয় মা ও ছেলে। মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। ছেলে ভর্তি ছিলেন সাধারণ ওয়ার্ডে। তবে ধীরে ধীরে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমতে থাকে শিমুলের। তাকেও আইসিইউ বেডে নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু হাসপাতালের সবগুলো আইসিইউ বেডে রোগী থাকায় কোনো ব্যবস্থা করা যাচ্ছিল না। এসময় নগরীর অন্যান্য হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে কোথায় আইসিইউ বেডের সন্ধান পায়নি পরিবার। হাসপাতাল সূত্র জানায়, এসময় মাকে আইসিইউ বেড থেকে সরিয়ে সেখানে তার ছেলেকে ভর্তি করানো হয়। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই মা মারা যান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বী ইত্তেফাককে বলেন, বিষয়টি কিছুটা অতিরঞ্জিত করে প্রচার করা হয়েছে। আসলে মায়ের পক্ষে এধরনের কোনো অনুরোধ করা সম্ভব ছিল না। কারণ তিনি প্রথম থেকেই অচেতন অবস্থায় ছিলেন। এরপর যখন ছেলের অবস্থাও খারাপের দিকে যায় তখন তাদের পরিবারই মাকে আইসিইউ বেড থেকে সরিয়ে ছেলেকে সেখানে ভর্তি করাতে বলে। বিষয়টি তারা লিখিতভাবেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে।
এদিকে, চট্টগ্রামে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হাসপাতালের পাশাপাশি বেডে চিকিত্সাধীন করোনা আক্রান্ত বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার রাত ৯টায় বাবা ও বুধবার সকাল ৯টায় ছেলের মৃত্যু হয়। মৃত বাবা ও ছেলের নাম সৈয়দ চৌধুরী (৮০) ও মো. আলমগীর (৩৫)। তাদের বাড়ি বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়নের চরখিজিরপুর গ্রামে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সৈয়দ চৌধুরীকে গত ২১ জুলাই জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছেলে আলমগীরকে ভর্তি করানো হয় তার পরদিন। তারা হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে পাশাপাশি বেডে চিকিত্সাধীন ছিলেন।
