স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিল্পকারখানা খুলে দেওয়ার দাবি ব্যবসায়ী নেতাদের

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ২৩:৩৬

যত দ্রুত সম্ভব দেশের রপ্তানি খাতসহ সব ধরনের উত্পাদনমুখী শিল্পকারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। কারখানা বন্ধ থাকলে রপ্তানি খাতের অর্ডার বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সব ধরনের রপ্তানি বাণিজ্য। পণ্য সরবরাহব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমে নিয়োজিত সব শ্রমিক-কর্মচারীকে টিকা প্রদানের আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। ঔ বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএর সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান এমপি, এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী এমপি, বিজিএমইএর সভাপতি মো. ফারুক হাসান, ডিসিসিআইয়ের সভাপতি রিজওয়ান রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, বিটিএমএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলুল হকসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতা।

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোভিডজনিত বিধিনিষেধের আওতায় সব ধরনের শিল্পকারখানা বন্ধ রাখায় অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রাণশক্তি উত্পাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে সাপ্লাই চেইন (সরবরাহব্যবস্থা) সম্পূর্ণভাবে বিঘ্নিত হওয়ার উপক্রম। এতে উত্পাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভবিষ্যতে পণ্যসামগ্রী সঠিকভাবে সরবরাহ ও বাজারজাত না হলে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। এতে স্বল্প আয়ের ক্রেতারা ভোগান্তির শিকার হবেন। পাশাপাশি রপ্তানি খাতের উত্পাদনব্যবস্থা বন্ধ থাকলে সময়মতো পরবর্তী রপ্তানি অর্ডার অনুযায়ী সাপ্লাই দেওয়া সম্ভব হবে না। এতে রপ্তানি অর্ডার বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় বিদ্যমান বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রয়েছে এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১ শতাংশ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। যদি উত্পাদনব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়, তাহলে অর্থনীতির চলমান গতিধারা ব্যাহত হবে। জীবন ও জীবিকার মধ্যে সমন্বয় করে অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে উত্পাদনব্যবস্থা সচল রাখা জরুরি। বর্তমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষাকে অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে। এর প্রেক্ষাপটে শিল্পকারখানাকে বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রেখে উত্পাদন প্রক্রিয়া সচল রাখতে হবে।