মিনুকে সাজা খাটানো সেই কুলসুমা গ্রেফতার

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ২৩:৩৬

চট্টগ্রামে নিজের পরিবর্তে মিনু আক্তার নামে এক নিরপরাধ নারীকে জেল খাটানো যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি কুলসুমা আক্তার কুলসুমীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর ইপিজেড থানাধীন ২ নম্বর মাইলের মাথা কমিশনার গলি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় কুলসুমার সহযোগী মর্জিনা আক্তারকেও আটক করা হয়।

এ ঘটনায় কুলসুমা আক্তার কুলসুমী, মর্জিনা আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা কয়েক জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে মিনু আক্তারকে কুলসুমা আক্তার কুলসুমী সাজিয়ে হাজতবাস করানোর অভিযোগে মামলা হয়েছে। কোতোয়ালি থানার এসআই আকাশ মাহমুদ ফরিদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আসামিদের গতকালই আদালতে সোপর্দ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।

থানা সূত্র জানায়, ২০০৬ সালের ২৯ মে নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন রহমতগঞ্জ ৮১ নম্বর গলির একটি বাসায় মোবাইলে কথা বলাকে কেন্দ্র করে গার্মেন্টস কর্মী পারভিনকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পারভিন আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করেন গার্মেন্টস কর্মী কুলসুমা আক্তার কুলসুমী। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হলেও মামলার তদন্তে এটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রমাণিত হয়। দীর্ঘ দুই বছর তদন্ত শেষে আদালতে কুলসুমার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর কুলসুমা গ্রেফতার হয়ে ২০০৭ সালের ২৬ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হাজতবাস করেন। মামলার বিচারকাজ চলার সময় প্রায় আট বছর জামিনে মুক্ত ছিলেন কুলসুমা। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষিত হয়। রায়ে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম আসামি কুলসুমা আক্তার কুলসুমীকে পারভিন হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

রায়ের পর মর্জিনা আক্তারসহ অন্য সহযোগীদের মাধ্যমে মিনু আক্তারের সঙ্গে কুলসুমার পরিচয় হয়। এরপর মিনুকে কুলসুমা সাজিয়ে ২০১৮ সালের ১২ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করান কুলসুমা ও তার সহযোগীরা। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

পরে মিনুকে কুলসুমা সাজিয়ে হাজতবাসের বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন গোলাম মাওলা মুরাদ নামে এক আইনজীবী। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে উচ্চ আদালতের আদেশে গত ১৬ জুন মিনু আক্তার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করেন। গত ২০ জুন চট্টগ্রাম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ (চতুর্থ আদালত) প্রকৃত আসামি কুলসুমা আক্তার কুলসুমীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

উল্লেখ্য, মিনু জামিনে মুক্ত হওয়ার ১২ দিন পর ২৯ জুন নগরীর বায়েজিদ-সীতাকুণ্ড লিংক রোডের আরেফিননগর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।