গুজরাট মডেলেই চলছে ত্রিপুরা :তৃণমূল কংগ্রেস

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ০০:০০

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সময়ে ভারত জুড়ে যেভাবে ‘স্বৈরতন্ত্র’ চলছে, বিজেপি শাসিত ত্রিপুরা তার ব্যতিক্রম নয়। পুরোনো গুজরাট মডেলেই ত্রিপুরায় সরকার চালাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। গতকাল ত্রিপুরার আগরতলায় পুলিশের হয়রানির পর এ মন্তব্য করেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর ত্রিপুরায় অবস্থান শক্ত করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাই তৃণমূলের হয়ে সমীক্ষা করতে ত্রিপুরা গিয়েছিলেন ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের প্রতিষ্ঠান আইপ্যাকের ২৩ জন কর্মী। গত রবিবার রাত থেকে আগরতলার একটি হোটেলে তাদের ‘বন্দি’ করে রাখার অভিযোগ ওঠে। বুধবার তাদের তলব করে আগরতলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, আগামী ১ আগস্ট প্রত্যেককে হাজিরা দিতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আইপ্যাক কর্মীদের বিরুদ্ধে কোভিড বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে তারা। যদিও গতকাল আগাম জামিন পেয়েছেন আইপ্যাক কর্মীরা। কিন্তু এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গতকাল সকালে আগরতলা পৌঁছান তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন ও বারাসতের এমপি কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তৃণমূলের নেতারা যখন সাংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন হানা দেয় পুলিশ। বৈঠকে কতজন উপস্থিত থাকবেন, কোভিডবিধি মেনে চলা হচ্ছে কি না—ইত্যাদি বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তৃণমূল নেতা ব্রাত্য, মলয় ঘটকদের। এ সময় ক্ষুব্ধ ডেরেক বলেন, আমরা কী করছি না-করছি, দেখার জন্য ১০০ জন পুলিশকর্মী পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি রাজ্যসভার এমপি। আমায় জঙ্গি বলে মনে হয়?

ত্রিপুরায় বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তৃণমূল নেতা মলয় বলেন, এখানে সাধারণ মানুষের ওপর যেভাবে অত্যাচার হচ্ছে, তাতে এই সরকারেরও পতন হবে। ত্রিপুরায় জুলুম চলছে। যার জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সেখানেও ‘খেলা হবে’ স্লোগান উঠছে বলে মন্তব্য করেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য। তার কথায়, ত্রিপুরার মানুষ আগে বাম দেখেছেন। এখন রাম দেখছেন। এর পর কাজ দেখতে চাইছেন। তৃণমূলকে ভয় পেতে শুরু করেছে বিপ্লব দেবের সরকার।

এমপি ডেরেক বলেন, ত্রিপুরায় আইপ্যাক কর্মীদের আটক করার নির্দেশ দিল্লি থেকে অমিত শাহ দিয়েছিলেন। গুজরাট মডেলেই ত্রিপুরা শাসন করছে বিজেপি। গোটা দেশে একই পরিস্থিতি। সংসদেও বিরোধীদের কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। খবর :আনন্দবাজার পত্রিকার।