সাবেক রাষ্ট্রদূত ও মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে মানসিক রোগী বানানোর অভিযোগ

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ০০:০০

সাবেক রাষ্ট্রদূত ও মুক্তিযোদ্ধা বাবার সঙ্গে মেয়েকে দেখা করতে দিচ্ছে না সত্-মা ও সত্-ভাই। দেখা করার ব্যাপারে আদালতের আদেশ ও পুলিশের সহায়তা নিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন মেয়ে পরমা মঞ্জুর। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক। রাজধানীর ধানমন্ডির ২৭ নম্বর রোডের ৩৬১/১ নম্বর (নতুন রোড-১৬, বাসা-১১) বাড়িতে সুইডেনের সাবেক রাষ্ট্রদূত মনজুরুল আলমকে আটকে রেখেছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী হুসনা মঞ্জুর ও ছেলে অরণ্য মঞ্জুর। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৫ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরমা দেশে ফেরেন। ফুফু অবসরপ্রাপ্ত সচিব সিদ্দিকা খানমকে সঙ্গে নিয়ে ধানমন্ডির ঐ বাড়িতে গেলে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয় তারা। সত্-ভাই অরণ্য মঞ্জুর জানান, ধানমন্ডির দোতলা এ বাড়িটির মালিক এখন তিনি (অরণ্য মঞ্জুর)। ঐ বাসায় ঢোকার কোনো অধিকার পরমার নেই।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করে পরমা মঞ্জুর বলেন, ধানমন্ডির ঐ বাড়িটির মালিক ছিলেন তার দাদা দলিল উদ্দিন লস্কর। দাদার মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে বাবা বাড়ির মালিক হন। বাবার দ্বিতীয় বিয়ের সূত্র ধরে তার মা রত্না রহমাতুল্লাহর সঙ্গে ডিভোর্স হয়। ২০০০ সালে তিনি বৃত্তি নিয়ে নরওয়ে পড়াশুনা করতে যান। সেখান থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে কানাডার ম্যাগগিল ইউনিভার্সিটিতে যোগদান করেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। বিদেশ থেকেই তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ হতো। সম্প্রতি তার বাবা অসুস্থ হয়ে বিছানায় শয্যাশায়ী হলে সত্-ভাই অরণ্য ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে মানসিক রোগী বানিয়ে ফেলেন। এর মধ্যে গত ২২ জানুয়ারি ধানমন্ডির ঐ বাড়িটি অরণ্য মঞ্জুর তার নামে হেবা করে নেন। বিদেশ থেকে যোগাযোগ করতে চাইলে বাবার মোবাইল ফোনে বিদেশি ইনকামিং ও আউট গোয়িং ব্লক করে দেওয়া হয়। এ অবস্থায় গত ১৬ জুন তার মা ঐ বাড়িতে ঢুকতে চাইলে তাকেও দেওয়া হয়নি। ১৫ জুলাই তিনি তার ফুফুকে সঙ্গে নিয়ে ধানমন্ডির ঐ বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কিন্তু তার সত্-মা ও ভাই তাতে বাধা দেয়। ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশের একটি টিম এসে অনেক চেষ্টা করে ঐ বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে পুলিশ বের হয়ে জানায় আপনারা বাসায় ঢুকতে চাইলে আইনের সহায়তা নিন। এরপর তিনি ধানমন্ডি থানায় একটি জিডি করেন এবং আদালতে ১০০ ধারায় একটি মামলা করেন। আদালত বাবার সঙ্গে দেখা করার আদেশ দেয়। ঐ আদেশ নিয়ে ধানমন্ডির বাসায় গেলে কিছু সময়ের জন্য দেখা করতে পারলেও তাকে বের করে দেয় এবং তার বাবাকে এখনো আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ করা হয়। তিনি আরো দাবি করেন, ধানমন্ডির শতকোটি টাকা মূল্যের জমি ও বাড়ির জন্যই তার সত্-ভাই পরিকল্পিতভাবে তার মুক্তিযোদ্ধা বাবা ও একজন সাবেক রাষ্ট্রদূতকে মানসিক রোগী বানিয়ে আটকে রেখেছেন।