করোনার সংক্রমণ ভয়াবহভাবে বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে শয্যা বা বেড সঙ্কট দেখা দিয়েছে থাইল্যান্ডে। বৃহস্পতিবারের রেকর্ড সংক্রমণ ও মৃত্যুতে দেশটির হাসপাতাল ও আইসোলেশন সেন্টারে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বেড সঙ্কট।
দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশ থাইল্যান্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশগুলো কঠোর বিধিনিষেধ এবং রাতের কারফিউয়ের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও, বৃহস্পতিবার এক দিনের রেকর্ড ১৭ হাজার ৬৬৯ জনের শরীরে নতুন করে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। একই সময়ে ১৬৫ জন মৃত্যুবরণ করেছে।

করোনার ডেলটা ধরনের এই ভয়াবহ সংক্রমণে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চিকিৎসাসেবা বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল সোমসাক আক্কাসিল্প জানান, আমি সরাসরি বলছি, আমাদের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত বেড নেই।
সব বড় হাসপাতালগুলোতেই ধারণক্ষমতার বেশি রোগী রয়েছে। যাদের ১০টি আইসিইউ বেড রয়েছে, তাদের ১২ জন আশঙ্কাজনক রোগীকে নিতে হচ্ছে। তাদের কাউকে আইসিইউ থেকে বের করা হলে, তারপর আবার বেড খালি হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার শুধু রাজধানীতে চার হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। এখানকার হাসপাতালগুলো দিনে এক হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে পারলেও এই সংখ্যা ইতোমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে।
আশঙ্কাজনক অবস্থা না হলে, বাড়িতেই চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে সেক্ষেত্রে তাদের কাছে জরুরি ওষুধ সরবরাহ করার ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

সোমসাক জানান, আসলে আমরা এখন আমাদের সেবার পরিসর যতই বাড়াই না কেনো, এখনকার সময়ের জন্য তা কোনোভাবেই পর্যাপ্ত হবে না। আমরা জানি না যে মহামারী এখনও এর চূড়ায় পৌঁছেছে কিনা। তবে আমাদের এর হাল টেনে ধরতে হবে।
দেশটিতে এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখ ৬১ হাজারেরও বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং ৪ হাজার ৫৬২ জন মারা গেছে।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
