বিজ্ঞান
হিমন এডওয়ার্ড গোমেজ, সিনিয়র শিক্ষক
সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা
১) সংক্রামক রোগ কীভাবে ছড়ায় তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:সংক্রামক রোগ নিম্নলিখিতভাবে ছড়ায়—
বায়ুর মাধ্যমে:হাঁচি-কাশি বা কথাবার্তা বলার সময় জীবাণু বায়ুতে ছড়িয়ে পড়ে এবং জীবে সংক্রমিত হয়। যেমন— সোয়াইন ফ্লু।
পানির মাধ্যমে:অনেক সময় জীবাণু পানিকে দূষিত করে থাকে। এই দূষিত পানি পানের মাধ্যমে সংক্রামক রোগের জীবাণু বিস্তার লাভ করে। যেমন— ডায়রিয়া, আমাশয় ইত্যাদি।
সংস্পর্শের মাধ্যমে:রোগাক্রান্ত ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংস্পর্শের মাধ্যমেও সংক্রামক রোগ প্রাণী ও পোকামাকড়ের মাধ্যমেও অনেক সময় রোগের বিস্তার ঘটে। যেমন— কুকুরের কামড়ের মাধ্যমে জলাতঙ্ক রোগ ছড়ায়। আবার মশার কামড়ের মাধ্যমে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু রোগ ছড়ায়।
২) পানি জমে থাকে এমন বস্তু যেমন — গামলা, টায়ার ইত্যাদি সরিয়ে ফেলার মাধ্যমে আমরা ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ করতে পারি। এর কারণ কী ?
উত্তর:পানি জমে থাকে এমন বস্তু যেমন— গামলা, টায়ার, ফুলের টব ইত্যাদি সরিয়ে ফেলার মাধ্যমে আমরা ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ করতে পারি। কারণ ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া রোগের বাহক হলো মশা। এরা বদ্ধ পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। সাধারণত গামলা, টায়ার এমনকি ফুলের টবে জমে থাকা পানিতেও এরা ডিম পেড়ে থাকে। এগুলো পরিষ্কার রাখলে বা সরিয়ে ফেললে মশকী আর ডিম পাড়তে পারে না। ফলে তাদের বংশ বিস্তার থেমে যায়। মশার বংশ বিস্তার থেমে যাওয়ায় অর্থাত্ পরিবেশ বাহক শূন্য হওয়ার কারণে ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়া জীবাণু বিস্তারলাভ করতে পারে না। ফলে এ দুটি রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
৩) পানিবাহিত এবং বায়ুবাহিত রোগের সাদৃশ্য এবং বৈসাদৃশ্য কোথায়?
উত্তর:পানিবাহিত এবং বায়ুবাহিত রোগের সাদৃশ্য এবং বৈসাদৃশ্য নিম্নে উল্লেখ করা হলো—
সাদৃশ্য —
পানিবাহিত এবং বায়ুবাহিত রোগ উভয়ই সংক্রামক রোগ।
উভয় প্রকার রোগই জীবাণুর মাধ্যমে হয়ে থাকে।
উভয় প্রকার রোগই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে একজন থেকে আরেকজনে ছড়িয়ে পড়ে।
উভয় প্রকার রোগে আক্রান্ত হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে, পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে নিরাপদ পানি পান করতে হবে।
বৈসাদৃশ্য —
বায়ুবাহিত রোগ বায়ুর মাধ্যমে এবং পানিবাহিত রোগ পানির মাধ্যমে ছড়ায়।
বায়ুবাহিত রোগের সাথে বায়ুদূষণ এবং পানিবাহিত রোগের সাথে পানিদূষণ সম্পৃক্ত।
হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু, রুমাল বা হাত দিয়ে মুখ ঢেকে বায়ুবহিত রোগ প্রতিরোধ করা যায়। অন্যদিকে জীবাণুমুক্ত বিশুদ্ধ পানি পান করে পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধ করা যায়।
