পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় গাছের চারা বিক্রির হাট বসে। সপ্তাহে দুই দিন রোববার ও বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন নার্সারির মালিকেরা নানা ধরনের গাছের চারা বিক্রি করে থাকেন। উপজেলার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর দেয়াল ঘেঁষে বসে গাছ বিক্রির হাট। প্রতি বছরের বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন ছয় মাস ধরে চলে গাছের চারা বিক্রি। তবে, বর্ষা মৌসুমে সর্বাধিক গাছের চারা বিক্রি হয় বলে জানান নার্সারির মালিকরা।
জানা গেছে, গাছ বিক্রির এ হাটে ১৫ জন নার্সারি মালিক গাছের চারা বিক্রি করেন। প্রতি বছর একেক জন গাছ বিক্রেতা/নার্সারি মালিক প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার গাছের চারা বিক্রি করে থাকেন। ফলদ, বনজ, ঔষুধিসহ বিভিন্ন প্রজাতির রোপণের উপযুক্ত গাছের চারা বিক্রি করা হয়। বর্তমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে গাছের চারা বিক্রির হার কমেছে বলে জানিয়েছেন চারা বিক্রেতারা।
উপজেলার ললিতারহাট বকুলতলা গ্রাম থেকে আসা চারা ক্রেতা শহিদুল্লাহ জানালেন, চারটি নারিকেল গাছের চারা ৫০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। এ গাছের হাট থেকে ভালো গাছের চারা পাওয়া যায়। পৌরসভা এলাকার সেকেন্দার আলী বলেন, ‘ইউক্যালিপ্টাস, কাঠালসহ আটটি গাছের চারা কিনেছি। চারাগুলো ভালো। রোপণ করলে বেড়ে উঠবে সমস্যা হবে না বলে মনে হচ্ছে।
পাটগ্রাম ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রামের সুজন নার্সারির মালিক আবুল হোসেন বলেন, গাছ বিক্রির এ হাটে মেহগনি, আম, জাম, কাঁঠাল, নারকেলসহ বিভিন্ন গাছের চারা বিক্রি করি। প্রায় ১০ বছর থেকে এই স্থানে চারা বিক্রি করি। একই ইউনিয়নের ঘোনাবাড়ি এলাকার মামুন নার্সারির মালিক ইয়াকুব আলী বলেন, নার্সারি করার ব্যাপারে প্রায় ২০ বছর আগে রাজশাহী চাপাইনবাবগঞ্জ, চট্টগ্রামে গিয়েছিলাম। দেখে এসে নার্সারি গড়ে তুলি। জগতবেড় ইউনিয়নের মুন্সীরহাট গ্রামের দুলালী নার্সারির মালিক দুলাল হোসেন দুলু জানান, পরিবারের স্ত্রী, সন্তান সবাই গাছের চারা তৈরিতে পরিশ্রম করি। অনেক যত্ন করতে হয়। বিভিন্ন প্রকার ফুলসহ ফলের গাছের চারা বিক্রি করে সংসার চালাই।
পাটগ্রাম উপজেলা নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, উপজেলার সব ইউনিয়নে নার্সারি আছে। অতি বৃষ্টি, রোদ আর বন্যায় প্রতি বছর গাছের চারা নষ্ট হয়ে অনেক নার্সারির মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বনবিভাগে অনেক বার সাহায্যের আবেদন করেছি কোনো কাজ হয় নাই। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে আমরা খুব সমস্যায় রয়েছি। মানুষ বাজারে কম আসায় গাছ বিক্রি কম হয়।
উপজেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল গাফ্ফার বলেন, পাটগ্রাম উপজেলায় ছোট-বড় মিলে প্রায় ২৫টি নার্সারি আছে। কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি লালমনিরহাট থেকে নিবন্ধন ভুক্ত কোনো নার্সারি এখানে নেই। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সহযোগিতা এলে নিবন্ধনভুক্তরা অগ্রাধিকার পাবেন। তবে, এখন পর্যন্ত কোনো সহযোগিতা আসেনি। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত নার্সারির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
