গোয়ালন্দে ফের পদ্মার ভাঙন শুরু

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ২১:২০

আক্তারুজ্জামান মৃধা, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা

গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাট এলাকায় ফের পদ্মার ভাঙন দেখা দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে তীব্র সে াতে এ এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। আকস্মিক শুরু হওয়া এই ভাঙনে বিলীন হয়েছে পাঁচটি বসতঘর ও ১৫০ মিটার এলাকা। আতঙ্কে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে আশপাশের ঘরবাড়ি। ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট, ১ ও ২ নম্বর ফেরিঘাটসহ সহস াধিক পরিবার।

গত বর্ষায় ভয়াবহ নদী ভাঙনের ক্ষত কাটতে না কাটতেই এবার আবার শুরু হয়েছে ভাঙন। গত ১৩ জুলাই ১০টি ঘরবাড়ি ও ১৫০ মিটার এলাকা পদ্মার তীব্র সে াতে ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। তবে তাত্ক্ষণিক লঞ্চ ও ফেরিঘাটের ভাঙন ঠেকাতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হলেও স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে নেওয়া হচ্ছে না কোনো পদক্ষেপ। ফলে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আবার নদীতে বিলীন হয়ে গেল পাঁচটি বাড়ির ভিটে। সরেজমিনে শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের লঞ্চঘাটসংলগ্ন মজিদ শেখের পাড়া এলাকার মৃত সামচু মাস্টারের ছেলে বদিউজ্জামান টোকন সরদার, সাবেক ইউপি সদস্য উজ্জল হোসেন বাবু মোল্লা, চান্দু মোল্লাসহ বেশ কয়েকটি পরিবারের ভিটেমাটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, লঞ্চঘাট এলাকায় কিছু জিওব্যাগ ফেলা হলেও সবচেয়ে ভাঙনপ্রবণ মজিদ শেখের পাড়া এলাকায় এ বছর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে লঞ্চঘাট, ফেরিঘাটসহ পুরো এলাকা। জানা যায়, গত বছরের ভাঙনে গৃহহীন হয়েছে সহস াধিক পরিবার। স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি পেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে দৌলতদিয়া ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আশরাফ হোসেন  বলেন, লঞ্চঘাট ও ১ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার মাঝামাঝি তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ১৩ জুলাই ১০টি ঘরবাড়ি ও ১৫০ মিটার এলাকা পদ্মার তীব্র সে াতে ভাঙনের ফলে মুহূর্তেই বিলীন হয়ে যায়। গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে দৌলতদিয়া মজিদ শেখের পাড়া, লঞ্চঘাট ও ১ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার ১৫০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশের ঘরবাড়িগুলো ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয়রা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আহাদ বলেন, গত ১৩ জুলাই হঠাত্ ঘূর্ণিস্রোতে ১২০ মিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছিল। তাত্ক্ষণিকভাবে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। পরে আবার শুক্রবার একই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। আমাদের শ্রমিকরা আবার সেখানে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করছে।