‘ভিউ কখনো নাটকের মান নির্ধারণ করে না’

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ২১:২৯

অনেকেই মানতে চান না ‘চকলেট হিরো’ তকমাটা। কিন্তু এই টাইটেল দর্শকরাই ভালোবেসে দিয়ে দেয়। হ্যাঁ, বারবার অপূর্ব ভাঙতে চেয়েছেন হয়তো। তার অভিনয়শৈলীতে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। তবু রোমান্টিক ইমেজে এক অনবদ্য শিল্পীর নাম জিয়াউল হক অপূর্ব। কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

বর্তমান কাজের ব্যস্ততা প্রসঙ্গে জানতে চাই—

সবে ঈদের ব্যস্ততা শেষ হলো। এখন করোনার কারণে সব কাজ বন্ধ রেখেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সবাই আলোচনা করে নতুন নাটকের কাজ শুরু করবো।

রোমান্টিক হিরোর তকমা পাওয়া অপূর্বকে বেশ কিছুদিন বিভিন্ন ঘরানার চরিত্রে দেখা মিলছে। নিজেকে ভাঙার নেপথ্যে কোনো বিশেষ কারণ আছে কী?

এটা আসলে সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। আমি আগেও ড্র্যাগ অ্যাডিক্টেড, খল’সহ বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করেছি। কিন্তু একটা সময় দেখলাম দর্শকরা আমাকে রোমান্টিক চরিত্রে দেখতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। তারাই আমাকে রোমান্টিক হিরোর ইমেজটা তৈরি করে দিয়েছেন। ইমেজ কিন্তু চাইলেই তৈরি করা যায় না। এক্ষেত্রে আমি অনেক সৌভাগবান। আমিও চেষ্টা করছি রোমান্টিক ইমেজ ধরে রেখে নানামুখী চরিত্রে এক্সপেরিমেন্ট করতে।

রোমান্টিক ইমেজ নিয়ে এ ধরনের এক্সপেরিমেন্টাল কাজ করা চ্যালেঞ্জিং নয় কী?

এটা খুবই কঠিন একটা কাজ আমাদের জন্য। এ ধরনের কাজে ভিউ কম হওয়ার পাশাপাশি কম মানুষের কাছে পৌঁছায়, দর্শক আগ্রহও অনেক কম থাকে। তবে আস্তে আস্তে মানুষের ভালো কাজে প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। তারা একটু ভিন্ন গল্পে বাস্তবধর্মী কাজগুলো দেখতে চায়। এটা ইতিবাচক একটি দিক।

ভিউ গুনে নাটকের মান ও স্টার নির্ধারণের চর্চাকে কীভাবে দেখছেন?

ভিউ মানেই যে নাটকটি ভালো সেটা বলা যাবে না। কারণ ভিউ কখনো নাটকের মান নির্ধারণ করে না। ভিউ মানে অনেক মানুষ কাজটি দেখছে। তাই ভিউকেও অস্বীকার করা যাবে না। আবার সবার দেখার রুচিও কিন্তু এক না। ফলে প্রত্যেক নির্মাতা বা শিল্পীকেই সব ধরনের দর্শকদের কথা মাথায় রেখে কাজ করতে হয়।

ওটিটিকে কতটা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন? মাধ্যমটিতে কাজের স্বাধীনতা কতটা থাকবে বলে মনে করেন?

এই বিষয়ে তেমনভাবে এখনই কিছু বলা যাবে না। কেবল মাধ্যমটির যাত্রা শুরু হলো, কিছুদিন আরো সময় দিতে হবে। তবে এরইমধ্যে বেশকিছু কাজ দিয়ে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া গেছে, এটা খুবই ভালো একটি দিক। আমার মনে হয় অনেক সম্ভাবনা রয়েছে এই মাধ্যমটির।

নতুনরা অভিযোগ করেন একই ঘরানার শিল্পীদের নিয়ে কাজ করায় তারা সুযোগ পাচ্ছেন না। এই চর্চা নতুন শিল্পী তৈরিতে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন না?

এই অভিযোগটা মানতে পারলাম না। উন্মুক্ত মাধ্যমে যারা আমাদের নাটকগুলো দেখেন তাদের তো আমরা জোর করে দেখাই না। সবাই ভালোবেসেই দেখেন। এক্ষেত্রে আমি বলবো, এই সময়ে নতুনদের প্রতিভা বিকাশের বিশাল সুযোগ রয়েছে। সুযোগ পাচ্ছে না এটা ভুল। যাদের ট্যালেন্ট আছে তারা উঠে আসবেই।

একটি নাটক জনপ্রিয়তা পেলে সেটাকে কপি করে একাধিক নাটক নির্মাণের চর্চাকে কীভাবে দেখছেন?

যদিও এই চর্চা একদমই ঠিক না, তবু এই চর্চা আগে থেকেই চলছে। মৌলিক গল্প তৈরি করা অনেক সাধনার একটি বিষয়। মৌলিক গল্পে কাজ করে গেলে অনেক নেতিবাচক কথাও শুনতে হয়। এটা অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই কেউ ক্যারিয়ার নিয়ে ঝুঁকি নিতে চায় না। কারণ দর্শকরা যদি গ্রহণ না করে বা দুর্নীতি অথবা রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে কাজ করতে গেলে সেনসেটিভ ইস্যু তৈরি হতে পারে। ফলে মৌলিক গল্পের কাজ সবসময়ই কমই হয়েছে বা হবে।

নাটকে চরিত্রে সংকট ভালো গল্প তুলে ধরার অন্তরায় মনে করেন না?

দেখুন, এই সংকট থেকে কিন্তু আমরা দিনদিন বের হয়ে আসছি। এই ঈদে প্রচারিত নাটকগুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন গল্পের প্রয়োজনে সব ধরনের চরিত্রে ভরপুর ছিল বেশিরভাগ নাটক। সুতরাং চরিত্রে সংকটের অভিযোগ এবারের নাটকগুলোতে গ্রহণযোগ্য না।

এখনকার নাটকের মান নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। আপনি কী মন্তব্য করবেন?

যারা এই অভিযোগ করছেন তাদের কাছে হয়তো খারাপ কাজটি পৌঁছেছে। ভালো কাজটি তাদের কাছে পৌঁছে দিতে আমরাই ব্যর্থ হয়েছি।  আমাদের নাটক কিন্তু এখন শুধু দেশে নয়, ওপার বাংলাতেও বেশ জনপ্রিয়। এখন অসংখ্য ভালো কাজ হচ্ছে। না হলে এত ভালো অবস্থানে আমরা যেতে পারতাম না।