স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনাসহ অন্যান্য চিকিত্সাসেবার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্যাথলজি বিভাগ ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার দাবিতে পরিচালককে স্মারকলিপি দিয়েছেন ৮০-র দশকের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ, রাজশাহীর নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার তারা রামেক হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে এই স্মারকলিপি দেন।
সংগঠনের পক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাবেক ভিপি রাগিব আহসান মুন্না এবং রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহা. আসাদুজ্জামান আসাদ স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহত্ রামেক হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিত্সার জন্য আসে। কিন্তু অত্যন্ত যন্ত্রণাক্লিষ্ট হূদয়ে আপনাকে অবগত করতে হচ্ছে যে, এখানে আসার পরে তাদের নানামুখী সমস্যা ও সংকটের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আমরা লক্ষ্য করেছি আমাদের প্রিয় এই হাসপাতালের সক্ষমতা ও অবকাঠামোর প্রাচুর্যতা থাকলেও রোগীদের সেইভাবে সেবা প্রদান করা হচ্ছে না। এখানে উন্নত প্যাথলজি ব্যবস্থা থাকলেও রোগীরা রোগের পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য বাইরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, যা রোগীর জন্য চরম বিড়ম্বনার। এছাড়া ওষুধ-পথ্যের যথেষ্ট সরবরাহ থাকলেও রোগীরা তা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। হাসপাতালে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের প্রতিনিয়ত এক শ্রেণির দুষ্ট প্রকৃতির স্বার্থবাজ মানুষ দ্বারা প্রতারিত হতে হচ্ছে।’
স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, রামেক হাসপাতালে আপনার দায়িত্বকাল অল্প দিনের হলেও জনশ্রুতিতে আছে, আপনি হাসপাতালে চিকিত্সা সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অনিয়ম দূর করতে নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে যাচ্ছেন। আপনি চাইলে স্থানীয় নাগরিক হিসেবে আমরা আপনাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আমরা আশা করি আপনি আমাদের প্রত্যাশা অনুধাবন করে নিম্নে বর্ণিত দাবিসমূহ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
এক. ২৪ ঘণ্টা প্যাথলজি বিভাগ চালু রাখতে হবে, দুই. কোভিড-১৯ রোগীসহ সব রোগীর জন্য রামেক হাসপাতালের সিটিস্ক্যানসহ সব প্রকার পরীক্ষা ও পরীক্ষার রিপোর্ট স্বল্প সময়ের মধ্যে দিতে হবে এবং উক্ত কেন্দ্রসমূহ ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখতে হবে, তিন. হাসপাতালে মৃত রোগীর লাশবাহী সব ধরনের গাড়ির ভাড়া রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত হারে গ্রহণ করতে হবে এবং ভাড়ার তালিকা হাসপাতালে টাঙানো থাকতে হবে, চার. হাসপাতালে আইসিইউ বেড সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করতে হবে, পাঁচ. হাসপাতালে প্রতারক চক্রের অপতত্পরতা বন্ধ করতে হবে এবং ছয়. প্রত্যেক রোগীকে সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত ওষুধ প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ করতে হবে।
