কঠোর বিধিনিষেধের গতকাল ছিল অষ্টম দিন। সারা দেশে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। কিন্তু রাজধানীতে ফেরা বন্ধ হয়নি মানুষের। সরকারঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই ঢাকায় ফিরছে কর্মজীবী মানুষ। গতকাল শুক্রবার সকালে গাবতলী ও আমিনবাজার ব্রিজ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি এড়িয়ে পায়ে হেঁটে, রিকশা, ভ্যানে করে ঢুকছে মানুষ। ঢাকা ফেরা এসব মানুষের বক্তব্য হলো, ‘বাড়িতে আর কত দিন থাকুম (থাকব) সেই কোরবানির ঈদের আগে গেছিলাম মাইয়া-পোলা নিয়া। ঈদের পরই লকডাউন শুরু হইল। আটকা পড়ছিলাম ঢাকায় আইতে পারি নাই। দোকানও খোলা হয় নাই। তাই ঈদের এক সপ্তাহ পর বাস, রিকশা, ভ্যানে কইরা ভাইঙ্গা ভাইঙ্গা ঢাকায় আইলাম।’ গতকাল শুক্রবার রাজধানীর প্রবেশ মুখ আব্দুল্লাহপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকাফেরত যাত্রী আনিসুর রহমান কথাগুলো বলছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি শেরপুরের নকলায়। পরিবার নিয়ে ঈদের আগের দিন তিনি গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলেন। ঢাকার দক্ষিণখানে একটি চা-পান বিক্রির দোকান রয়েছে তার। তিনি বলেন, বাড়িতে বইসা থাকতে আর ভালো লাগে না। দোকান না খুললে পরে খামু কি। তাই এক সপ্তাহ থাইকা ঢাকায় আইসা পড়লাম। তিনি আরো বলেন, ‘বাড়িওয়ালা দুই দিন ফোন করেছিল। গত মাসের ভাড়া বাকি আছে। এর জন্যও চইলা আসলাম।’
আমিনবাজার ব্রিজে দায়িত্বরত পুলিশের উপপরিদর্শক বায়োজিদ মোল্লা বলেন, আগামী সপ্তাহে বিধিনিষেধের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অনেকেই ফিরছে ঢাকায়। তবে যারা উপযুক্ত কারণ দেখাতে পারছেন না তাদের জরিমানা করা হচ্ছে। সকাল থেকে একজনের বিরুদ্ধে মামলাও দেওয়া হয়েছে। টঙ্গী থেকে অনেকে হাতে ও ঘাড়ে ব্যাগ নিয়ে হেঁটে হেঁটে আসছেন আব্দুল্লাহপুর। সেখানে অনেকেই রিকশার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ আবার ভ্যানে বসে যাচ্ছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, আব্দুল্লাহপুরে ব্রিজের দুই পাশে পুলিশের দুটি চেকপোস্ট রয়েছে। একটি ঢাকার প্রবেশ মুখে অন্যটি ঢাকা থেকে গাজীপুর যেতে। দুটি চেকপোস্টেই ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্রাইম বিভাগ ও ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এই দুটি চেকপোস্টই উত্তরার দুটি থানার (উত্তরা পূর্ব থানা ও উত্তরা পশ্চিম) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।
চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা জানান, সকাল থেকে যানবাহনের চাপ কম থাকলেও টঙ্গীর ওপার থেকে অনেক মানুষ হেঁটে ঢাকায় ঢুকছেন। তবে এদের সংখ্যাও কম। এই চেকপোস্টে মানুষের অহেতুক চলাচল নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হচ্ছে।
উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর থেকে টঙ্গী যাচ্ছিলেন রহমতুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি। আব্দুল্লাহপুরে উত্তরা-পশ্চিম থানার আওতায় থাকা চেকপোস্টে তার পথরোধ করেন পুলিশ সদস্যরা। বের হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি পুলিশকে জানান, তার পোষা কবুতরের খাবার কিনতে তিনি টঙ্গী বাজারে যাচ্ছেন।
পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসা করেন এটা কি জরুরি কাজ? এতে তিনি উত্তরে বলেন, আমাদের ক্ষুধা লাগলে আমরা খাই স্যার কবুতরেরও তো ক্ষুধা আছে। আমি বাড়িতে কবুতর পালি তাই ওদের খাবার কিনতে যাচ্ছিলাম। এ কথা শুনে পথচারী রহমতুল্লাহকে ছেড়ে দেন পুলিশ সদস্যরা। চেকপোস্টে দায়িত্বরত উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিয়াজ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, লোকটি সত্য কথা বলেছেন। তাই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সড়কে গাড়ির চাপ কম, কঠোর অবস্থানে পুলিশ
গতকাল ছিল শুক্রবার, সাপ্তাহিক ছুটির দিন। সকালে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তায় গাড়ি চলাচল করছে কম। বাইরে মানুষের সংখ্যাও সীমিত। তবে আগের মতোই কঠোর অবস্থানে রয়েছেন সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। দেখা গেছে, চেকপোস্টগুলো দিয়ে চলাচলরত সব যানবাহনকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হচ্ছে। যাদের জবাব সন্তুষ্ট মনে হচ্ছে না, তাদের আনা হচ্ছে আইনের আওতায়। রাসেল স্কয়ার মোড়ে দায়িত্বে থাকা ধানমন্ডি ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট সুমন কুমার মহন্ত বলেন, ‘আজ (গতকাল) সরকারি ছুটির দিন। রাস্তাঘাট সকাল থেকেই ফাঁকা। রাস্তায় যেসব গাড়ি দেখা যাচ্ছে তার বেশির ভাগই হাসপাতালে যাচ্ছে। যারা অপ্রয়োজনে বের হচ্ছে, তাদের আমরা আইনের আওতায় নিচ্ছি।’
