করোনা পরিস্থিতি নাজুক

সিলেট শহর জুড়ে অ্যাম্বুলেন্সের ছোটাছুটি

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ২৩:০০

চলমান লকডাউনে অ্যাম্বুলেন্সের ছুটাছুটি আর নগরজুড়ে সাইরেনের করুণ শব্দ। করোনা রোগী আর স্বজনদের আর্তনাদ। মহল্লায় মহল্লায় যখন তখন মাইকে মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা—পরিস্থিতিকে আরো ভারী করে তুলেছে। করোনার থাবায় একেকটি পরিবারের জীবন যেন স্থবির। দুঃশ্চিন্তায় মানুষ। করোনা রোগীর ভিড়ে সরকারি-বেসরকারি হাপাতালগুলো ঠাসা। লকডাউনে রোগীদের সঙ্গে আসা স্বজনদের দুর্ভোগেরও কাহিনীও করুণ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডাক্তার, নার্স ও সংস্লিষ্টরা হিমশিম খাচ্ছেন। এদিকে সিলেট বিভাগে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জনই সিলেট জেলার। এই সময়ে নতুন করে আরো ৮০২ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এটি ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। মৃত্যুর দিক থেকেও সর্বোচ্চ।

অন্যদিকে মানুষের সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ হাপাতালগুলোতে ঠাঁই না থাকা। গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে আইসিইউর জন্য হাহাকার চলছে। অনেক প্রবাসীও দেশে তার স্বজনদের বাঁচাতে আইসিইউর জন্য দৌড়-ঝাঁপ করে বিমুখ হচ্ছেন ।

সূত্র মতে, সিলেটে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল মিলে কোভিড চিকিত্সার জন্য রয়েছে প্রায় ৮০০ বেড। আইসিইউ বেড  ১২১টি। এর  মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৮৪টি সাধারণ ও ১৬টি আইসিইউ, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তিনটি ওয়ার্ড মিলে ১৬৫টি সাধারণ ও ৮টি আইসিইউ, খাদিমপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩১টি করে সাধারণ আইসোলেশন বেড রয়েছে। এ ছাড়া সিলেটে বেসরকারি সকল হাসপাতাল মিলে প্রায় সাড়ে ৪০০ সাধারণ ও ৯৭টি আইসিইউ বেড রয়েছে। কিন্তু কোথাও  বেড খালি নেই। 

সিলেট নগরীতে হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্সেই পিতার মৃত্যু যন্ত্রণা দেখতে হয় সন্তানকে। অনেক কষ্টে পাওয়া ‘সাত রাজার ধন’ আইসিইউ বেডটি অবশেষে মায়ের কষ্ট লাঘবে ছেড়ে দিয়ে সন্তান না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে গত বৃহস্পতিবার। পরিস্থিতি এতই খারাপ যে, হাসপাতালগুলোতে সাধারণ বেডও খালি নেই করোনা রোগীদের জন্য। ওসমানীতে মেঝেতে রেখে করোনা রোগীদের চিকিত্সা দিয়েও কুলাতে পারছেন না চিকিত্সকরা। আইসিইউ বেডের জন্য রোগীদের স্বজনরা নিবন্ধন করছেন। কেউ সুস্থ হলে বা মারা গেলে যেন সুযোগ পাওয়া যায়। আইসিইউ বেড বা সাধারণ বেড বাড়ানো দাবি করা হচ্ছে ঈদুল আজহার  আগে থেকেই। কিন্তু  অগ্রগতি নেই। কর্তৃপক্ষীয় মহলের জবাব ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হয়েছে।

নতুন শনাক্তদের মধ্যে সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ৪১৩ জন, সুনামগঞ্জে ১২১, হবিগঞ্জে ৫১ জন, মৌলভীবাজারে ১৬৬ জন এবং সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আরো ৫১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে সিলেটে বিভাগের চার জেলায় মিলে করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ১১৬ জন। যার সর্বোচ্চ সিলেট জেলায় ২১ হাজার ২২৫ জন। বিভাগে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮৪ জনে উন্নীত হলো।