আবুল খায়ের গ্রুপের উদ্যোগ

সারা দেশে ১৭ অক্সিজেন ব্যাংক, বিনা মূল্যে রিফিল করা যায় সিলিন্ডার

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২১, ২৩:০৪

ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তারে করোনা মহামারি সম্প্রতি নতুন বিপর্যয় তৈরি করেছে। সীমান্ত জেলাগুলো থেকে শুরু হয়ে সংক্রমণ ক্রমেই দেশের অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্রাতিরিক্ত অক্সিজেন চাহিদার কারণে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম থাকা সত্ত্বেও হঠাত্ অক্সিজেন শেষ হয়ে যাওয়া এবং সময়মতো অক্সিজেন রিফিল না হওয়ায় রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি উদ্যোগের সহায়ক হিসেবে অক্সিজেন ব্যাংক তৈরির ধারণা নিয়ে এগিয়ে এসেছে বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের গ্রুপ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কোম্পানিটি প্রথমে ১৫টি অক্সিজেন ব্যাংক তৈরির ঘোষণা দেয়। মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিশ্রুত ১৫টির সঙ্গে অতিরিক্ত আরো দুটিসহ মোট ১৭টি অক্সিজেন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি এই অক্সিজেন  ব্যাংক নিজস্ব ব্যবস্থাপনা ও লোকবলের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। অতিরিক্ত অক্সিজেনের প্রয়োজনে এই ব্যাংক থেকে হাসপাতালগুলো বিনা মূল্যে অক্সিজেন ব্যবহার করতে পারছে। স্থানীয়ভাবে অক্সিজেনের সংকট থাকলে এই ব্যাংক থেকে ব্যক্তিগত সিলিন্ডার কোনো ফি ছাড়াই রিফিল করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি অক্সিজেন ব্যাংকে ৭ দশমিক ৫ মিটার কিউবের কমপক্ষে ৩০টি সিলিন্ডার রয়েছে। নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে প্রতিটি অক্সিজেন ব্যাংকে নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এ পর্যন্ত যেসব স্থানে অক্সিজেন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে সেগুলো হলো—টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, রাজধানীর হাতিরঝিল এবং যশোর, বরগুনা, গোপালগঞ্জ, ঝিনাইদহ, জামালপুর, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নোয়াখালী, চাঁদপুর, কক্সবাজার, নওগাঁ ও নীলফামারীর ২৫০ শয্যার হাসপাতাল।

আবুল খায়ের গ্রুপ সূত্রে জানা গেছে, যন্ত্রাংশ আমদানি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় কোম্পানির ইঞ্জিনিয়াররা এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য বিকল্প উপায়ে চট্টগ্রামে যন্ত্রাংশ তৈরি করেন। একই সময়ে অপারেটরসহ প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দিয়ে তাদের প্রশিক্ষিত করা হয়। অক্সিজেন ব্যাংক ব্যবস্থাপক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে স্থাপিত মনিটরিং সেলের মাধ্যমে অক্সিজেন ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছে।

উল্লে­খ্য, ২০২০ সালে করোনা মোকাবিলায় অতি জরুরি অক্সিজেনের প্রয়োজনে প্রতিদিন ২৬০ টন উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দেশের বৃহত্তম অক্সিজেন প্ল্যান্ট জনস্বার্থে উন্মুক্ত করে দিয়েছিল আবুল খায়ের গ্রুপ। এ পর্যন্ত ২৫ হাজারেরও বেশি ব্যক্তিগত ও হাসপাতালের সিলিন্ডার বিনা মূল্যে রিফিল করে দেওয়া হয়েছে এবং ৮ হাজারের বেশি অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া নিজস্ব উদ্যোগে ৩০টি হাসপাতালের কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থা নির্মাণ করা হয়েছে এবং মানুষের জীবন রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন হাসপাতালে ২০টি আইসিইউ বেড স্থাপন করা হয়েছে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় আবুল খায়ের গ্রুপ মেডিক্যাল অক্সিজেন সহায়তা কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণ করে। পাশের দেশ থেকে অক্সিজেন আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে ঘাটতি পূরণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদিত দুটি সরবরাহ কোম্পানির মাধ্যমে লিকুইড অক্সিজেন সরবরাহ শুরু করে। এর মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়া হবে বলেও কোম্পানিটির পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।