সব সম্ভবের দেশে

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৪২

মাহবুব নাহিদ

আমাদের দেশে যেকোনো কিছু জালিয়াতি করাই যেন সম্ভব। এই অসম্ভব কাজটাকে সম্ভবের চেয়েও সহজ বানিয়ে ফেলেন কিছু তথা দুষ্কৃতকারীরা। এর মধ্যে অবশ্য আমাদের সমাজকথিত কিছু ভালো মানুষও রয়েছে, যাদের ভালোর আড়ালে লুকিয়ে আছে পশুত্বের ছোঁয়া। যেকোনো কারো স্বাক্ষর জাল করে গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ করছে এমন ঘটনা অহরহ ঘটে। ভুয়া তথ্য দিয়ে চাকরি করছে কিংবা বিদেশে স্কলারশিপ নিয়ে চলে যাচ্ছে, কারো লেখা কেউ কপি করে নিজের নামে চালায় এটাও খুব সহজ ব্যাপার। এমনকি থিসিস পেপার, গবেষণা কর্ম কিংবা সায়েন্স ফিকশনেও এই কর্ম সাধন হয়ে থাকে।

কিন্তু এই সকল কিছুর মাঝে যেটাকে খুব বেশি জঘন্য লাগে তা হলো সার্টিফিকেট জাল করা। কেউ অনেক কষ্ট করে পড়ালেখা করে সার্টিফিকেট অর্জন করবে আর সামান্য কয়টা টাকা খরচ করে বিনাকষ্টে সার্টিফিকেট নিয়ে যাবে, এটা তো আসলেই অন্যায়। এটাকে শুধু মানবতার অবক্ষয় বললেও ভুল হবে, এটা ঘোরতর অপরাধ। শুধুমাত্র এসএসসি পাস করতে একটা শিক্ষার্থীর সময় লাগে ১০ বছর। আর এই ১০ বছরে কত নির্ঘুম রাত কেটে যায়, শিক্ষকদের ঝারি, বাবা-মায়ের হাতে মার খেতে হয় তার ঠিক আছে। কতটা লড়াই করে সেই সার্টিফিকেট অর্জন করতে হয় যা কিনা পণ্য হিসেবে বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু একটা শিক্ষার্থীর এতো বছরের সাধনায় যে শিক্ষা অর্জিত হয় তা কি কিনতে পারা  যায়? হয়তো যায়ই, কারণ আমরা তো সার্টিফিকেটধারীদেরই শিক্ষিত বলে আখ্যা দিবো। এটাই স্বাভাবিক, তাই বলে শিক্ষাকে যদি পণ্য বানানোর এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে তাহলে এই জাতির মুখ থুবড়ে পড়তে খুব বেশিদিন লাগবে না

এই কাজগুলো একটা নির্দিষ্ট চক্র দ্বারা পরিচালিত হয়। হয়তো এদের পিছনে কোনো হোমরা-চোমরা ব্যক্তি কিংবা গ্রুপ আছে। নাহলে কেনো তারা লোকচক্ষুর সামনে থেকেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে? তারা মাঝে মাঝে গ্রেপ্তার হয় আবার ছাড়াও পেয়ে যায় এবং পূর্বের ন্যায় কুকর্ম সাধন করে। এরা হয়তো অতোটা শিক্ষিত লোকও না। তবে দুঃখের ব্যাপার হলো, শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠান যখন শিক্ষাকে পণ্য বানিয়ে ফেলে তখন কিছুই বলার থাকে না। আমদের দেশে এমনো প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে টাকার মাত্রার সঙ্গে সঙ্গে রেজাল্টের গ্রেডের মাত্রা বাড়ে। আবার শুধুমাত্র ভর্তি হয়ে নামেমাত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে দামি সার্টিফিকেট করা যায় এই দেশে। হায়রে সেলুকাস! এমন দেশ কি আমরা চেয়েছি? শিক্ষাই যদি পণ্য হয়ে যায় তাহলে বাজারে বিক্রি করার আর বাকি থাকবে কি?

n লেখক: শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়