খেলা তখন রংপুর রাইডার্সের নিয়ন্ত্রণে। ক্রিস গেইল ও নাদিফ চৌধুরী ছক্কা বৃষ্টি শুরু করেছিলেন। ৩.৪ ওভারেই রংপুর কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪২ রান তুলে ফেলেছিল।
শুভাগত হোমকে পরপর তিন বলে ছক্কা মেরে এবার বিপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা নাদিফ তার ‘ছক্কা নাদিফ’ নামটা ফিরিয়ে আনবেন বলে মনে হচ্ছিল। শুভাগত অবশ্য নাদিফকে ফিরিয়ে প্রতিশোধটা নিতে পেরেছিলেন। তারপরও অস্বস্তিতে ঢাকা ডায়নামাইটস। ঠিক এই সময়ই মঞ্চে এলেন রুবেল হোসেন।
ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বল করতে এসে প্রথম দুই বলেই তুলে নিলেন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দেওয়া গেইল এবং এই টুর্নামেন্টের সফলতম ব্যাটসম্যান রাইলি রুশোর উইকেট। এই ধাক্কাই সামলে ওঠা রংপুরের জন্য যথেষ্ট ছিল। তারপর ওভারটা আবার মেডেন নিলেন রুবেল। এরপর শেষ ওভারে এসে প্রথম দিন বলে ১৪ রান হজম করলেন রুবেল হোসেন। তারপরও চতুর্থ বলে তুলে নিলেন রংপুরের দিনের সেরা ব্যাটসম্যান রবি বোপারার উইকেট। আর এই উইকেট নিয়েই ঢাকার সফলতম বোলার হয়ে গেলেন রুবেল। বহু তারকা থাকতেও সবাইকে ছাপিয়ে দিনটা নিজের করে নিলেন বাংলাদেশি এই ফাস্ট বোলার।
শেষ ওভারের প্রথম তিন বল বোলিং বিশ্লেষণটাকে একটু খারাপ করে দিল। প্রথম ৩ ওভারে মাত্র ৯ রান খরচ করে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। আর শেষ ওভারে ১৪ রান ব্যয় করার পর বিশ্লেষণটা দাঁড়ালো—৪-১-২৩-৪। তাও এবার বিপিএলে অন্যতম সেরা বোলিং; রুবেলের অবশ্যই সেরা।
রুবেলের এই দাপটই দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে দারুণভাবে খেলায় রাখলো ঢাকা ডায়নামাইটসকে। তার কল্যাণেই রংপুরের তারকাখচিত ব্যাটিং লাইনআপকে ১৪২ রানে অলআউট করে দিতে পারলো ঢাকা।
এদিন লড়াইটা ছিল ঢাকা ও রংপুরের ফাইনালে ওঠার লড়াই। প্রথম কোয়ালিফায়ারে রংপুরকে হারিয়ে ফাইনালে চলে গেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। রংপুর এসেছে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে। অন্যদিকে এলিমিনেটরে চিটাগং ভাইকিংসকে হারিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে এসেছে ঢাকা।
গতকাল আগে ব্যাট করতে নেমেছিল রংপুর। এবার বিপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা নাদিফ ও গেইল ভালোই শুরু করেছিলেন। নাদিফ ১২ বলে ২৭ রান করেন। আর গেইল ১৩ বলে করেন ১৫ রান। এরপর রুশো প্রথম বলেই ফিরে যান। ফলে বিনা উইকেটে ৪২ রান তোলা রংপুর ওই স্কোরেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে। এরপর মোহাম্মদ মিঠুন ও রবি বোপারা চেষ্টা করছিলেন দলকে টেনে তোলার। মিঠুন ২৭ বলে ৩৮ রান করেন। আর বোপারা শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে ৪৯ রান করেন।
