সত্যেন বসু

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২১, ১৯:৪৮

মাধব রায়, কথাসাহিত্যিক, সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)

ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট

 

 

 

 

গতকালের পর

 

পড়াশুনা শেষ করে কর্মজীবন শুরু করলেন কীভাবে? অণু বলল।

১৯১৪ সালে কলকাতায় বিজ্ঞান কলেজ প্রতিষ্ঠা হলো। উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় তিনজনকে ডেকে পাঠালেন। সত্যেন্দ্রনাথ বসু, মেঘনাদ সাহা ও শৈলেন্দ্রনাথ ঘোষ। ১৯১৭ সালে সতেন্দ্রনাথ ও মেঘনাদ সেখানে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করলেন। কিন্তু রাজনীতির কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় শৈলেন্দ্রনাথ যোগ দিলেন না।

বিজ্ঞানের নতুন নতুন নানান তত্ত্ব ও তথ্যের প্রতি আগে থেকেই সত্যেন্দ্রনাথের ঝোঁক ছিল। কিন্তু এই সব জানতে গেলে নানান ভাষার পত্রপত্রিকা পড়তে হয়। তাই তিনি জার্মান এবং ফরাসি ভাষা শিখতে শুরু করলেন। এরপর মেঘনাদ সাহাকে সাথে নিয়ে আইনস্টাইনের বই মূল জার্মান ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করলেন।

১৯০৫ থেকে ১৯১৬ পর্যন্ত জার্মান ভাষায় লিখিত আইনস্টাইনের সবগুলো নিবন্ধ সাহা এবং বোস ইংরেজিতে অনুবাদ করে প্রকাশ করেছিলেন। এরপর ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে উপাচার্য পিজে হার্টজ এর আমন্ত্রণে তিনি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের রিডার পদে যোগ দিলেন।

রিডার পদটা কী? কমলা জানতে চাইলেন।

রিডার হচ্ছে একটি একাডেমিক র্যাংক, যেটি সিনিয়র লেকচারার এর উপরে। কিন্তু প্রফেসর এর নিচের একটি পোস্ট। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন। এরপর চলে যান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৫৬ সালে এবং অবসরের পর ১৯৫৮ পর্যন্ত বিশ্বভারতীতে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল ঊষাবতী বসু।

আকাশ বলল-কিন্তু তিনি গবেষণা করলেন কখন, আর আইনস্টাইনের সাথে কাজ করলেনই বা কখন?

গবেষণার কাজ শুরু হয় বিজ্ঞান কলেজে শিক্ষকতা করার সময়ই। বয়েল ও চার্লস এর সূত্রে বলা হয়েছে চাপ, আয়তন ও তাপমাত্রার একটি সম্পর্ক রয়েছে। আয়তন কম বেশি হলে গ্যাসের এই সম্পর্ক কী করে পাল্টায়, এ সম্পর্কে সত্যেন বসু মেঘনাদ সাহাকে সাথে নিয়ে একটি গবেষণা করেন। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয় ‘ফিলোসফিক্যাল ম্যাগাজিন’-এ। এতে প্রতিষ্ঠা পায় সাহা-বোস তত্ত্ব। ১৯২০ সালে এই বিষয়ে আরও গবেষণাপত্র এই পত্রিকায় পাঠান সত্যেন বসু। তখন আলো যে তরঙ্গ এবং কণা উভয়ই, তা বিজ্ঞানী মহলে আলোচনা হচ্ছে। বড় বড় বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে গবেষণা করছেন। কিন্তু এই কণার মধ্যে শক্তি বণ্টনের বিষয়টা কেউ ব্যাখ্যা করতে পারছেন না। ১৯০০ সালে প্রকাশিত ম্যাক্স প­্যাংকের তত্ত্বও না। সত্যেন বসু এই নিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেন এবং বিশ্ববিখ্যাত Physics Journals এ পাঠিয়ে দেন। কিন্তু এই পত্রিকা বসুর নিবন্ধ প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ১৯২৪ সালের  ৪ জুন তিনি আইনস্টাইনকে একটি চিঠি লিখেন এবং গবেষণাপত্রটিও পাঠিয়ে দেন। আইনস্টাইন এটি পড়ে অবাক হলেন এবং জার্মান ভাষায় অনুবাদ করে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ পত্রিকা জায়েিস্ক্রফট ফুর ফিজিক (Zeitschrift Fur Physik) এ নিজের মতামতসহ পাঠিয়ে দেন। এটি বোস আইনস্টাইন সংখ্যাতত্ত্ব বা বোস আইনস্টাইন স্ট্যাটিসর্িটকস নামে পরিচিত হয়।

আইনস্টাইন এই ধারণাটি গ্রহণ করে পরমাণুর ক্ষেত্রে বিবেচনা করলেন। এটি এখন বোস-আইনস্টাইন কনডেনসেট নামে পরিচিত। ১৯৯৫ সালে এক পরীক্ষায় এটি প্রমাণিত হয় এবং যে সকল কণাগুলোর স্পিন পূর্ণসংখ্যা, সেগুলোকে বোসন নামে নামকরণ করা হয়। আইনস্টাইন মন্তব্যে কী লেখেন? আকাশের প্রশ্ন। আইনস্টাইন লেখেন, আমার মতে বোস কর্তৃক

প­্যাংকের এই সূত্র নির্ধারণ পদ্ধতি একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।