খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী গ্রামে ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট জন্ম। তিনি ছিলেন শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, শিল্পস্রষ্টা, বিজ্ঞানী, সমাজসেবক, সাহিত্যিক এবং বহুগুণের অধিকারী এক মহান দেশপ্রেমিক।
১৮৮৩ সালে ব্রিটেনের এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ক্লাসে ভর্তি হন। ১৮৮৫ সালে যখন বিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখনই তাঁর মনের যন্ত্রণা প্রকাশের সুযোগ এলো। সে সময় এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর স্যার স্টাফোর্ট নর্থকোট ঘোষণা দিলেন, সিপাহী বিদ্রোহের আগে ও পরে ভারতবর্ষের অবস্থা শীর্ষক প্রবন্ধ প্রতিযোগিতার। এতে অংশগ্রহণ করে তাঁর প্রবন্ধে ব্রিটিশ শাসকের ভারতবাসীর ওপর অত্যাচারের নগ্ন চিত্র প্রকাশ করলেন। সে প্রবন্ধ ব্রিটিশ সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। যুবক প্রফুল্লচন্দ্র ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে লিখেছিলেন, ‘ভারতীয় সরকার এক কর আদায়ের যন্ত্র। কিছুতেই তাকে জনগণের সরকার বলা যায় না।’ ব্রিটিশ সরকারের কাছে তিনি ছিলেন ছদ্মবেশী বিপ্লবী ছাত্র।
১৮৮৫ সালে বিএসসি পরীক্ষায় প্রফুল্লচন্দ্র রায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত শ্রেষ্ঠ ৫০০ জন ছাত্রের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন। তাঁর মৌলিক গবেষণাপত্রে খুশি হয়ে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৮৮৭ সালে তাঁকে ডিএসসি ডিগ্রি প্রদান করেন এবং এ কৃতিত্বের সুবাদে ১৮৮৮ সালে বৃত্তি পান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হন।
প্রফুল্লচন্দ্র রায় বিজ্ঞানী হলেও দক্ষ রাজনীতিক ছিলেন। দেশের সংকটময় মুহূর্তে যখন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতারা রাজবন্দি, তখন তিনি বিজ্ঞানাগার ছেড়ে রাজনৈতিক মঞ্চে উঠেছিলেন এবং দৃপ্ত কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘বিজ্ঞান অপেক্ষা করতে পারে কিন্তু স্বরাজ অপেক্ষা করতে পারে না।’ ১৯০৫ সালে তিনি বঙ্গভঙ্গের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হন। ১৯২৫ সালে মহাত্মা গান্ধী অসহযোগ আন্দোলন প্রচারে খুলনায় এলে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ছিলেন সংবর্ধনা কমিটির সভাপতি। একই সময় কাটিপাড়ায় ‘ভারত সেবাশ্রম’ স্থাপন করে এলাকার মানুষের চরকায় সুতা কাটার মাধ্যমে স্বদেশি আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেন। ব্রিটিশ গোয়েন্দা দপ্তরে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের নাম লেখা ছিল বিজ্ঞানী বেশে বিপ্লবী।
আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় ১৮৯৫ সালে মারকিউরাস নাইট্রাস আবিষ্কার করে বিজ্ঞানজগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
প্রকাশ ঘোষ বিধান
