এই সময়ের ছড়া

লকডাউনে গালিভার

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২১, ১৯:৫০

 

শোনেন শোনেন ভাই বেরাদার শোনেন দিয়া মন

চমত্কার এক ভ্রমণকথা করিবো বর্ণন—

 

অটোয় চড়ে এই শহরে এলেন গালিভার

তিনটে লিলিপুটও আবার সঙ্গে এলো তাঁর।

লিলিপুটরা তেমন আছে গল্পে ছিল যেই

অত বছর পরও তারা বাড়া-কমায় নেই।

আগের মতো গালিভার আর বিশালদেহী নন

তাকে দেখে চমকাল না শহরবাসীগণ।

আসার সময় গলায় ছিল পাস এক মিডিয়ার

পুলিশি-চেক পথে তাদের আটকাল না আর।

 

লাইভে এসে ক্যামেরাটা করেন তিনি অন

লকডাউনের ভ্রমণকথা করিলেন বর্ণন—

 

কাঁচাবাজার হাজার হাজার লোকের সমাগম

ঘেঁষাঘেঁষির এই বাজারে স্বাস্থ্যবিধি কম।

নতুন আসা সবজি যেমন টমেটো আর শিম

মাংস ও মাছ সবজি কিনে, কিনছে লোকে ডিম।

খোলা শেডে শিঙাড়া-চা চলছে গপাগপ

তেলেভাজা পরোটাও আছে আলুর চপ।

সেলুন খোলা আধাআধি কাটছে বসে চুল

লিলিপুটরা বলল, ‘একি দেখছি না তো ভুল’!

দোকানগুলোর বন্ধ শাটার কিন্তু চিচিং ফাঁক

সকল জিনিস যাচ্ছে পাওয়া একটু দিলে হাঁক।

ওষুধপাতির মতো যেন সব জরুরি তাই

কিনতে গেলে মিলছে সবই কোথাও কমতি নাই।

 

প্রধান সড়ক হঠাত্ ফাঁকা ঘুরছে প্রশাসন

নানান অজুহাতে ঠিকই চলছে মানুষজন।

জরিমানার গুনছে টাকা তাতেও বাধা কই

বিনাকাজে ঘুরছে তারা ভাজছে যেন খৈ!

বড় গাড়ি চলছে না ঠিক চলছে ছোট যান

শহর জুড়ে হাজার গাড়ি দ্রুত ধাবমান।

 

শহর ছেড়ে একটু দূরে গ্রামে এলেন যেই

এখানে তো লকডাউনের বিন্দু বাতাস নেই।

রাস্তাঘাটে টানছে বিড়ি মুখে খিলি পান

এই করোনা আছে কি না একটু দেখে যান।

বলব কাকে দূরত্বটা একটু বজায় রাখ

এর পরিণাম কী হবে যে বলব না আর, থাক!