দুই মাসে বিও অ্যাকাউন্ট কমেছে ৭ লাখ
রেজাউল হক কৌশিক
শেয়ারবাজার দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় চলছে। চলতি বছরের শুরু থেকেই মূল্যসূচক বাড়ছে। একই সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণ বাড়ছে। বাজারের এমন ভালো পরিস্থিতিতেও শেয়ারবাজার থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন অনেক বিনিয়োগকারী। অবশ্য যেসব বিনিয়োগকারী বাজারের বাইরে চলে যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগই আইপিও শিকারি। সেন্ট্রাল ডিপজিটরি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) হিসাবে দেখা গেছে, গত দুই মাসেই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৫৫৪টি বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছেন বা বন্ধ হয়ে গেছে।
প্রাইমারি বা সেকেন্ডারি যে কোনো মার্কেটে বিনিয়োগের জন্য বিও অ্যাকাউন্ট বাধ্যতামূলক। বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা কমার অর্থ হলো শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে ব্যাপক ধ্বসের পর থেকে বিনিয়োগকারীরা খুব বেশি বাজারমুখী হতে চায়নি। এরপর মাঝেমধ্যে বাজার ঊর্ধ্বমুখী হলেও তা বেশি দিন টেকসই হয়নি। ফলে গত ছয় বছরে ৯ লাখের মতো বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে গেছে। নিয়মানুযায়ী, প্রতি বছর জুন মাসে বিও অ্যাকাউন্ট ফি পরিশোধ না করলে অ্যাকাউন্ট এমনিতেই বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে বিও নবায়ন ফি ৪৫০ টাকা।
সিডিবিএলের হিসাবে, গত মাস জুলাইয়ে বাজার ছেড়েছেন ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮ জন। আর জুন মাসে ছেড়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৪৫৬ জন। সিডিবিএলের তথ্যমতে, জুন মাসের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব সংখ্যা ছিল ২৬ লাখ ৫৮ হাজার ৮১৭টি। সেখান থেকে প্রায় ৭ লাখ কমে ৩১ জুলাই দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৭০ হাজার ৩৩৩টিতে। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল ২৫ লাখ ৫২ হাজার ১৬৮টি।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন এবং বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কয়েকটি কারণে বিনিয়োগকারীরা বাজার ছাড়ছেন। এর মধ্যে একটি হচ্ছে—প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) নতুন পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে লটারি প্রথা উঠে গেছে। এখন যারাই আবেদন করছেন তারাই সমহারে শেয়ার পাচ্ছেন। ফলে দীর্ঘদিনের পুরাতন নিয়মের আইপিও ব্যবসা বন্ধ হয়েছে। এ কারণে হতাশ হয়ে বাজার ছাড়ছেন অনেকে।
নতুন পদ্ধতিতে আইপিওতে আবেদন করতে হলে বিনিয়োগকারীদের ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ থাকতে হয়। অর্থাত্ ২০ হাজার টাকার শেয়ার কেনা থাকতে হয়। পাশাপাশি আইপিওতে আবেদন করতে হলে ন্যূনতম ১০ হাজার টাকার আবেদন করতে হবে।
এদিকে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর নতুন কোম্পানির শেয়ার পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরুর প্রথম দিন থেকেই সার্কিট ব্রেকার আরোপ করায় শেয়ারের দাম বাড়ছে খুব ধীরে। ফলে আগে যেখানে লেনদেন শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যে ১০ টাকার শেয়ার সর্বনিম্ন ৩০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ত, সেখানে এখন দুই সপ্তাহে ১০ টাকার শেয়ার ২০ টাকা পর্যন্তও উঠছে না। পক্ষান্তরে আইপিও ব্যবসার চেয়ে সেকেন্ডারি মার্কেটে ব্যবসা করলে দ্বিগুণ মুনাফা পাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। এসব কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যারা ১০০, ২০০ কিংবা ৫০০ বিও হিসাব ব্যবহার করে আইপিও ব্যবসা করছিলেন তারা এখন নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি শরীফ আনোয়ার হোসাইন বলেন, বিভিন্ন কারণে বিনিয়োগকারীরা বাজারে যাওয়া আসা করেন। বাজার যখন ভালো হয় এবং বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পায় তখন বেশি বিনিয়োগকারী আসেন। আবার কমে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এসব বিষয় ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) ক্ষেত্রে নতুন নিয়মের কারণে অনেকেই বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়ে থাকতে পারে। এছাড়া এর পাশাপাশি অন্য কিছু কারণও রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
