আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য গতিশীল হওয়ার আশা
চট্টগ্রাম অফিস
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে দেশের প্রথম বেসরকারি দুটি জেটিতেই পণ্যবাহী জাহাজ ভিড়তে শুরু করেছে। জেটিগুলো নির্মাণ করেছে দেশের অন্যতম বৃহত্ জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড। গত মার্চে প্রথম ড্রাই ডক জেটি নির্মিত হয় কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে আনোয়ারা উপজেলায়। চার মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় জেটি নির্মাণকাজও গত বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে জেটি দুটিতে পণ্যবাহী জাহাজও ভিড়েছে। দেশে প্রথম বেসরকারি দুটি জেটির কার্যক্রম শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ জটের কারণে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রিতা লাঘবের পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরো গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, দ্বিতীয় জেটি নির্মাণ শেষে দেশের অন্যতম দুই শীর্ষ শিল্প গ্রুপ বিএসআরএম ও আবুল খায়ের গ্রুপের পণ্য বোঝাই দুটি জাহাজ ১ নম্বর ও ২ নম্বর জেটিতে ভেড়ে। যাদের প্রত্যেকটি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টন পণ্য বহন করতে সক্ষম। জেটি দুটিতে ১৭০ মিটার লম্বা দুটি জাহাজ একসঙ্গে ভিড়তে পারবে। দুই জেটিতে মাসে ১০-১২টি জাহাজ এক সঙ্গে পণ্য খালাস করবে। এর আগে প্রথম জেটি নির্মাণের পর এই জেটিতে ভেড়ে বিএসআরএম এর কাঁচামালবাহী প্রায় ১৫৪ মিটার দীর্ঘ এমভি দিনা ওশেন নামের প্রথম জাহাজটি।
কর্ণফুলী ড্রাইডক কর্তৃপক্ষ জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলের প্রবেশ পথে একটি গুপ্ত বাঁক থাকায় বড় জাহাজগুলো বন্দরে ঢুকতে পারে না। তবে কর্ণফুলী ড্রাই ডক জেটিতে এই সমস্যা নেই। কারণ এটি গুপ্ত বাঁক এড়িয়ে সাগরের দিকে তৈরি করা হয়েছে। ফলে এখানে বিভিন্ন আকারের দীর্ঘকায় জাহাজ ভিড়তে সক্ষম হবে।
জানা গেছে, জেটি তৈরির পর গত ২ মাসে এখানে ১ দশমিক ৫০ লাখ টন পণ্য খালাস হয়েছে। জেটি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য মতে এই দুই জেটি দৈনিক কম করে হলেও ৬ হাজার টন এবং মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার টন পণ্য খালাস করতে সক্ষম। এই হিসাবে বার্ষিক ১৮ লাখ টন পণ্য এই দুই জেটিতে খালাস হবে। কর্ণফুলীর এই জেটি বেসরকারি হলেও এর মাধ্যমে বন্দরেরও উপার্জন হবে। বন্দরে পণ্য খালাস হলে যে উপার্জন বন্দরের হয় এখানেও তা হবে। তবে সবচেয়ে বড় কথা এই বন্দর নির্মাণের ফলে জাহাজ জট হ্রাস পাবে এবং দেশের অর্থনীতিতে গতি আসবে। কর্ণফুলী ড্রাই ডক কর্তৃপক্ষ জানায়, কর্ণফুলীতে আরো দুটি জেটি তৈরির কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব জেটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে মোংলা বন্দরের সমপরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি পণ্য এসব জেটির মাধ্যমে খালাস করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
