স্পোর্টস রিপোর্টার
মার্কিন সাঁতারু মাইকেল ফেলপস পুল ছেড়ে দিয়েছেন। টোকিওতে ঘুরে ঘুরে দেখছেন গেমস আর একটি টিভির সঙ্গে কাজ করছেন। বিশেষজ্ঞ মতামত দিচ্ছেন। ফেলপস রিও অলিম্পিকে পাঁচটি স্বর্ণপদক জয় করেছিলেন সাঁতারে। তারই সঙ্গী ছিলেন স্বদেশী আরেক সাঁতারু ড্রেসেল। সেই ড্রেসেল এবার টোকিও অলিম্পিকে ঝড় তুললেন। সোনায় মোড়ানো দিন শেষ করলেন মার্কিন সাঁতারু ড্রেসেল। অলিম্পিকে দ্রুততম সাঁতারুর খেতাব তার মাথায়। টোকিওর অ্যাকুয়াটিক সেন্টারে গতকাল নিজের শেষ ইভেন্টে ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইল লড়াইয়ে ড্রেসেল স্বর্ণপদক জয় করেছেন। অলিম্পিক রেকর্ড গড়েছেন। দুনিয়ার সেরা সাঁতারুর খেতাবটা মাথায় তুলে নিয়েছেন।
ড্রেসেলের টাইমিং ছিল ২১.০৭ সেকেন্ড। আগের রেকর্ডের চেয়ে ০.২৩ সেকেন্ড কম সময় নিয়েছেন ড্রেসেল।
আগের রেকর্ডটি ছিল ব্রাজিলিয়ান সাঁতারু সিজার সিয়েলোর হাতে, সেটি ২০০৮ অলিম্পিকে, বেইজিংয়ে। টোকিও অলিম্পিকে ড্রেসেল নিজের চতুর্থ স্বর্ণপদক গলায় তুললেন। মার্কিন সাঁতারুরা এখন পর্যন্ত পুল হতে ২৭টি স্বর্ণপদক জয় করেছেন। সেই রেকর্ড ভাঙতে পারায় মহাখুশি পুলের নতুন দানব ড্রেসল। টোকিওতে নীল পানি হতে উঠে এসে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমকে বলছিলেন ড্রেসেল। ড্রেসেলের ইভেন্টে রূপার পদক জয় করেছেন ফরাসি সাঁতারু ফ্লোরেন্ট মানাউদো, সময় ছিল ২১.৫৫ সেকেন্ড। আর ব্রাজিলিয়ান সাঁতারু ব্রুনো ফ্রাতাউস ব্রোঞ্জ জয় করেছেন, তিনি সময় নিয়েছেন ২১.৫৭ সেকেন্ড।
ড্রেসেল ছিলেন ছোট বাচ্চা। টিভির পর্দায় সাঁতার দেখে দেখে তার চোখে রঙ্গিন স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল। নিজের হাতে এঁকে ছিলেন কীভাবে তিনিও পুল থেকে স্বর্ণপদক তুলে আনবেন। ২০১০ লন্ডন অলিম্পিকে গেমস দেখেছেন টিভির পর্দায়। ড্রেসেল বলছিলেন, ‘আমি টিভির পর্দায় দেখেছিলাম ফ্লোরেন্ট মানাউদো লড়াই করছিল। লন্ডন অলিম্পিকে গেমস হতে স্বর্ণপদক জয় করে ছিলেন ফ্লোরেন্ট মানাউদো। সেই সাঁতারু আজ আমার কাছে হেরেছে কিংবা আমি তাকে পরাস্ত করতে পেরেছি এটা আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের। যেকোনো ক্রীড়াবিদের জন্যই এটা সম্মানের। যাকে আমি টিভিতে দেখেছি, আমি বড় হয়ে খেলা শিখে তাকে হারিয়ে স্বর্ণপদক জয় করেছি। আমরা আজ এই পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে পদক গ্রহণ করেছি।’
ব্রুনো বলছিলেন, ‘ড্রেসেলের মতো সাঁতারুর সঙ্গে লড়াই করব বলে নিজেকে সবকিছু হতে দূরে রেখেছিলাম। আজ তার সঙ্গে পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে ব্রোঞ্জপদক গলায় পরতে পেরেছি বলে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমার কাছে মনে হয় ড্রেসেল এক সময় মাইকেল ফেলপসকেও ছাড়িয়ে যাবে।’
