কান্দাহার বিমানবন্দরে তালেবানের রকেট হামলা, ফ্লাইট স্থগিত

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২১, ২২:৩৪

আফগানিস্তানের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহর দখল করার জন্য সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তীব্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তালেবানের যোদ্ধারা। হেরাত, লস্কর গাহ এবং কান্দাহার—এই তিনটি শহরে গতকাল রবিবারও সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। কান্দাহারের বিমানবন্দরে রকেট হামলা চালিয়েছে তালেবান বাহিনী। এরপর বিমান চলাচল আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খবর বিবিসির

সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিদেশি সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই তালেবান বাহিনী আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল দখল করে নিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, তালেবান ইতিমধ্যে দেশটির অর্ধেকেরও বেশি এলাকা দখল করে নিয়েছে। পাকিস্তান ও ইরানের সঙ্গে আফগানিস্তানের সীমান্ত চৌকিও এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। তবে এই তিনটি শহরের ভবিষ্যত্ শেষ পর্যন্ত কাদের হাতে চলে যায় সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি বাহিনী কতক্ষণ শহর তিনটি ধরে রাখতে পারবে সেটাও অনিশ্চিত। আশঙ্কা করা হচ্ছে, শহরগুলোতে মানবিক সংকটের সৃষ্টি হতে পারে।

লস্কর গাহ শহরের ভেতরে রবিবার তীব্র লড়াই অব্যাহত রয়েছে। এর আগে শনিবার বিদ্রোহী যোদ্ধারা গভর্নরের অফিস থেকে মাত্র কয়েক শ মিটার দূরে অবস্থান করছিল কিন্তু রাত নামার পর তাদেরকে সেখান থেকে হটিয়ে দেয় আফগান সৈন্যরা। যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় তালেবানের অবস্থানের ওপর বিমান হামলা চালায় আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনী। সরকারি সৈন্যরা দাবি করছে—তারা বহু তালেবান যোদ্ধাকে হত্যা করেছে।

কান্দাহার শহরের বিমান বন্দরে গতকাল ভোরের দিকে তালেবানের রকেট ছোড়ার পর সব ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। রকেটের আঘাতে রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। কান্দাহারের একজন এমপি শনিবার বিবিসিকে বলেছেন, শহরটি তালেবানের হাতে চলে যেতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। ইতিমধ্যে হাজার হাজার বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। এমপি গুল আহমেদ কামিন বলেন, ঘণ্টায় ঘণ্টায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে এবং গত ২০ বছরের ইতিহাসে শহরে এতো তীব্র লড়াই কখনো হয়নি। তিনি বলেন, তালেবানের প্রধান টার্গেট এখন কান্দাহার শহর। এই শহরটিকে তারা আপাতত রাজধানী বানাতে চায়। ‘কান্দাহার শহরের পতন ঘটলে এই অঞ্চলের আরো পাঁচটি অথবা ছয়টি প্রদেশও তালেবানের দখলে চলে যাবে,’ বলেন কামিন। তিনি বলেন, তালেবানের যোদ্ধারা শহরের বিভিন্ন দিকে অবস্থান করছে। শহরে প্রচুর লোকজন থাকার কারণে সরকারি বাহিনী ভারী অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে না।