নাটোর-২ (নাটোর সদর-নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের বিরুদ্ধে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় সাধারণ ডায়ারি করা হয়েছে। গত ২৯ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সরকার সুজিত কুমার নিজের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চেয়ে এই জিডি করেন। নগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণ জিডির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জিডিতে রাবি শিক্ষক বলেন, তিনি সপরিবারে রাজশাহী মহানগরীর কুমারপাড়ায় বসবাস করেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে চারটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার মধ্যে একটি ‘নাটোর জেলার ইতিহাস ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধ’ অন্যতম। উক্ত গ্রন্থে নাটোর সদর আসনের (নাটোর-২) সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের পিতার নাম একাত্তরের রাজাকারের তালিকায় স্থান পেয়েছে।
জিডিতে লেখক বলেন, প্রথম প্রকাশের ৩১০ পৃষ্ঠায়, প্রথম সংস্করণের ৩৬১ পৃষ্ঠায় এবং দ্বিতীয় সংস্করণের ৬০০ পৃষ্ঠায় রাজাকার হাসান আলীর নাম মুদ্রিত হয়েছে। তিনি তিন বছর নাটোর জেলার গ্রামগঞ্জে ঘুরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে অনেকের সাক্ষাত্কার নিয়েছেন। একাধিক সাক্ষাত্কারদাতা নাটোর কান্দিভিটার (পুরাতন কোর্টপাড়া) হাসান আলী একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় একজন কুখ্যাত রাজাকার ছিল বলে তথ্য দিয়েছেন। লেখক তাদের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী তার গ্রন্থে রাজাকার হিসেবে হাসান আলীর নাম সংযোজন করেছেন।
জিডিতে তিনি আরো বলেন, বর্তমানে নাটোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি গঠন নিয়ে নিজেদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও ভিন্নমত সৃষ্টি হলে সাংসদের প্রতিপক্ষের লোকজন লেখকের বইয়ের উল্লেখিত সংসদ সদস্যের পিতার মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার তথ্য আলোচনায় নিয়ে আসেন। গ্রন্থে উল্লেখিত ‘হাসান আলী’ই যে সাংসদ শিমুলের পিতা, তা গত জুনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের একাংশের দাবির আগে তিনিও জানতেন না। এরপর সাংসদ শিমুলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ইতিমধ্যে লেখককে কিছু অপরিচিত সন্ত্রাসী বারবার জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে। তাই তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
এদিকে সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল অবশ্য বলেন, এটা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তিনি কাউকেই হুমকি দেননি। এমনকি তার কোনো সমর্থকও এর সঙ্গে জড়িত নয়। তিনি ইতিমধ্যে নাটোরের এসপি এবং রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজিকে বলেছেন, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য। মোবাইল ট্র্যাকিং করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে দাবি করে তিনি আরো বলেন, অধ্যাপক সরকার সুজিত কুমারের সঙ্গে কার কার যোগাযোগ আছে, এসব তথ্য বের করলেই সব ষড়যন্ত্র বেরিয়ে আসবে। সুজিত সরকার যে বইটি প্রকাশ করেছেন, সেখানে প্রথম সংস্করণে নাম ছিল ‘হাসান আলী’। সেখানে কোনো ঠিকানা ছিল না। পরের সংস্করণে ‘হাসান আলী’র সঙ্গে ‘সরদার’ যুক্ত করেছেন। অর্থাত্ কোনো কিছুর সঙ্গে কোনো মিল নেই। খুব পরিকল্পিতভাবে এই কাজগুলো করা হয়েছে। তিনিও এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
