সিগন্যাল অমান্য করে ট্রাফিক পুলিশের ওপরেই গাড়ি চালিয়ে দিল চালক!

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২১, ২২:৩৮

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের গাড়ি বের হতে গাবতলী থেকে নিউমার্কেটমুখী গাড়িগুলোকে থামার সিগন্যাল দিয়েছিলেন ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল হেলাল উদ্দিন (৫৫)। সব গাড়ি থেমে গেলেও একটি মাইক্রোবাস সিগন্যাল অমান্য করে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কনস্টেবল হেলালকে প্রথমে ধাক্কায় দেয় মাইক্রোবাসটি। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তার ওপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যায় মাইক্রোবাসের চালক।গতকাল রবিবার বেলা ১১টার দিকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন দ্রুত হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাহেদ আল মাসুদ জানান, হাসপাতালের ভেতরে থাকা গাড়ি বের হওয়ার জন্য মিরপুর সড়কের গাড়িগুলোকে থামার সংকেত দেওয়া হয়েছিল। এরই মধ্যে নবীনগর থেকে আসা একটি মাইক্রোবাস সংকেত অমান্য করে চলে যাওয়ার সময় কনস্টেবল হেলালকে ধাক্কা দেয়। এতে হেলাল পড়ে গেলে তার ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যায় ঐ মাইক্রোবাসের চালক।

মাইক্রোবাসটি আটক করা হলেও চালক পলাতক জানিয়ে তিনি বলেন, মাইক্রোবাসটি শিক্ষক আনা-নেওয়ার জন্য জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম) ভাড়া নিয়েছিল। দুর্ঘটনার সময় গাড়িতে থাকা দুজন শিক্ষক চালককে থামতে বলেছিলেন, কিন্তু চালক না থামিয়ে ঢাকা কলেজের কাছে গাড়িসহ তাদের রেখে পালিয়ে যায়। পরে শিক্ষকেরাই ফোন করে জানালে পুলিশ মাইক্রোবাসটি জব্দ করে বলে জানান উপ-পুলিশ কমিশনার শাহেদ।

শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানে আলম মুন্সি জানান, তারা এখনো মাইক্রোবাসটির চালককে গ্রেফতার করতে পারেননি। ট্রাফিক কনস্টেবল মো. হেলালের বয়স ৪৫ বছর। তিনি মিরপুর পুলিশ ব্যারাকে থাকতেন। তার বাড়ি গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানায়।