কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতিতে সমাজের বিভিন্ন সেক্টরের জনগোষ্ঠীর মতো ডাউন সিনড্রোম রোগে আক্রান্তদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করা জরুরি বলে এক জরিপ প্রকাশ অনুষ্ঠানে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ঐ জরিপে দেখা যায়, ৬১ শতাংশ ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশুর পরিবারে জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। এসব পরিবারের অভিভাবকদের প্রায় সবাই কর্মসংস্থানের ঝুঁকির মধ্যে আছেন। বিভিন্ন সেবার অপ্রতুলতার পাশাপশি তাদের আর্থিক সংকট খুবই বেশি।
সম্প্রতি ডিজঅ্যাবলড রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন (ডিআরআরএ) বাংলাদেশের আটটি জেলার ১০টি উপজেলায় উদ্দেশ্যমূলক নমুনায়ন কৌশল ব্যবহার করে ৩০০ ডাউন সিনড্রোম ব্যক্তির মধ্যে এই জরিপ পরিচালনা করে।
শনিবার ডিআরআরএর নির্বাহী পরিচালক ফরিদা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় জরিপের বিস্তারিত তুলে ধরেন। অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড কমিউনিকেশন অ্যাডভাইজার স্বপ্না রেজার সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিনি।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, সরকারের চলমান প্রতিবন্ধী শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার হিসাবমতে বাংলাদেশে আনুমানিক ৪ হাজার ৮৫০ জন ডাউন সিনড্রোম ব্যক্তি আছেন। তবে ডাউন সিনড্রোম নিয়ে কাজ করছে এমন সংগঠনগুলোর মতে, বাংলাদেশে প্রায় ২ লাখ ডাউন সিনড্রোম ব্যক্তি রয়েছেন। ডিআরআরএর সমীক্ষায় দেখা যায়, কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতিতে ৫৪ শতাংশ শিশু মাঝারি স্তরের ক্ষতিগ্রস্ততার মধ্যে রয়েছে। এমন প্রায় ৯৭ শতাংশ শিশু দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য কেয়ারগিভারদের ওপর নির্ভরশীল। ৩০ শতাংশের বেঁচে থাকার জন্য নিয়মিত ওষুধের প্রয়োজন হয়। ৩ শতাংশ শিশুর কার্যকর গতিশীলতার জন্য সহায়ক ডিভাইসের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি তাদের ভবিষ্যত্ জীবনযাপনকে আরো ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ডাউন সিনড্রোম ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা, দ্রুত টিকা প্রদান, হোম বেইজড শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা এবং বিশেষ ব্যবস্থায় চিকিত্সা ও থেরাপি কার্যক্রম সক্রিয় রাখার সুপারিশ করা হয়।
