হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বেড়েছে পণ্য রপ্তানি

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ২১:০৪

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর

নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে ভারত থেকে শুধু আমদানিই নয়, বেড়েছে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিও। করোনা সংক্রমণের এই পরিস্থিতিতেও গত ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের এই অন্যতম বৃহত্ স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ২ কোটি ৭২ লাখ মার্কিন ডলারের বিভিন্ন পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়েছে। অর্থাত্ গত এক বছরে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে ২২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৮০ হাজার টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যা বিগত অর্থবছরের তুলনায় ১ কোটি ৩১ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি। তবে রপ্তানিকারকরা দাবি করেছে, বন্দর দিয়ে ভারতে বেশকিছু পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা থাকলেও ভারত অভ্যন্তরে বেশকিছু জটিলতা থাকায় সেটি সম্ভব হচ্ছে না।

হিলি স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ব্যাপক চাহিদা থাকায় হিলি দিয়ে ভারতে কর্টন র্যাগস (বর্জ্য কাপড়), রাইস ব্রান অয়েল, পানির পাম্প রপ্তানি হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে ভারতে ৩ হাজার ৪০০ পিস পানির পাম্প, ২৮৫ টন কর্টন র্যাগস, ২৬ হাজার ৪৬৫ টন রাইস ব্রান অয়েল ভারতে রপ্তানি হয়েছে। এসব পণ্য ভারতে রপ্তানি করে আয় হয়েছে ২ কোটি ৭২ লাখ ৪১ হাজার মার্কিন ডলার।

একইভাবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বন্দর দিয়ে ৬০০ পিস পানির পাম্প, ১১৯ টন কর্টন র্যাগস, ১৯ হাজার ৬৭০ টন রাইস ব্রান অয়েল, চার টন পানির পাম্পের বিভিন্ন পার্টস রপ্তানি হয়েছিল। যা থেকে ১ কোটি ৫৮ লাখ ৯৪ হাজার মার্কিন ডলার আয় হয়েছিল।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন জানান, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দিনদিন পণ্য আমদানির পরিমাণ বাড়ছে। তবে ব্যাপকহারে পণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা থাকলেও তা সম্ভব হয়ে উঠছে না। কিছু সমস্যার কারণে আমরা ভারতে সব পণ্য রপ্তানি করতে পারছি না। এছাড়া বন্দরসহ অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকায় রপ্তানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক ভারতে গিয়ে সময়মতো পণ্য খালাস করতে পারে না। বন্দর দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাঁচামাল; বিশেষ করে কাঁচা মরিচ, আলু, বেগুন, কলাসহ শাকসবজি ভারতে রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়গুলো আমরা বিভিন্ন দপ্তরকে অবহিত করেছি। সমস্যাগুলো যদি সমাধান করা হয় তাহলে বন্দর দিয়ে ব্যাপক পরিমাণ পণ্য রপ্তানি বাড়বে।

বাংলাহিলি কাস্টম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান লিটন জানান, দেশে যখন কোনো পণ্যের দাম বেড়ে যায় ও ব্যাপক চাহিদা থাকে, সে সময়ে আমরা হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি করি। অন্যদিকে আমাদের দেশে যখন পর্যাপ্ত কাঁচা মরিচের উত্পাদন হয় তখন ৫-১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। ঐ সময় ইচ্ছা ও চাহিদা থাকলেও ভারতে কাঁচা মরিচ রপ্তানি করতে পারি না। এছাড়া জয়পুরহাট, বগুড়া, মোকামতলা এলাকায় প্রচুর পরিমাণ কলা ও শজনে ডাঁটার উত্পাদন হয়। এসবের ব্যাপক চাহিদা আছে ভারতে। তার পরও কিছু সমস্যার কারণে রপ্তানি করতে পারি না। সমস্যাগুলো সমাধান করা জরুরি। হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের উপ-কমিশনার কামরুল ইসলাম জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরে রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭২ লাখ মার্কিন ডলার। যেখানে ২০১৯-২০ অর্থবছরে রপ্তানি ছিল ১ কোটি ৫৮ লাখ মার্কিন ডলার। ফলে রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে ৮২ দশমিক ৮৭ ভাগ। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে রাইস ব্রান, ওয়াটার পাম্প, কর্টন র্যাগস রপ্তানি হয়। তবে বন্দর দিয়ে ব্যাটারি, জুস, কৃষিপণ্যও রপ্তানির সুযোগ আছে বলে জানান তিনি।