হোটেল-রেস্তোরাঁ খুলতে চান মালিকেরা

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ২১:৩৩

ইত্তেফাক রিপোর্ট

আগামী ৫ আগস্টের পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোটেল-রেস্তোরাঁ স্বাভাবিক নিয়মে খোলা রাখতে চান মালিকেরা। সেটা যদি সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে অর্ধেক আসনে বসিয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁ আবারও চালু করার দাবি জানিয়েছে মালিক সমিতি। সমিতি বলছে, চলমান বিধিনিষেধে রেস্তোরাঁগুলো শুধু অনলাইন বা টেকওয়ের মাধ্যমে খাবার বিক্রি করতে পারছে। কিন্তু এই সেবার অন্তর্ভুক্ত রেস্তোরাঁর সংখ্যা সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ শতাংশ। এ কারণে সারা দেশে প্রায় ৮০ শতাংশ রেস্তোরাঁ বন্ধ রয়েছে। বন্ধ থাকায় দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন এই খাতের উদ্যোক্তারা।

করোনা পরিস্থিতিতে নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত রেস্তোরাঁ খাতের সমস্যা তুলে ধরে গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। সংবাদ সম্মেলনে সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘মহামারি করোনা ভাইরাসের আঘাতে রেস্তোরাঁ খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত  হয়েছে। এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের কারণে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কখনো অর্ধেক আসনে বসিয়ে, আবার কখনো শুধু অনলাইন বা টেকওয়ের মাধ্যমে আমাদের ব্যবসা সীমিত রেখেছি। কিন্তু টেকওয়ে দিয়ে ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়। টেকওয়ে-সেবার আওতায় রেস্তোরাঁর সংখ্যা ২ থেকে ৩ শতাংশ।’ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি জানায়, সারা দেশে ৬০ হাজার রেস্তোরাঁয় ৩০ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই খাতের সঙ্গে জড়িত; যারা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। করোনার প্রভাবে সারা দেশের ৮০ শতাংশ রেস্তোরাঁ বন্ধ রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা সরকারের কাছে ছয় দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। সেগুলো হলো :স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী হেটেল-রেস্তোরাঁ খোলা। তা-ও যদি সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ আসনে বসিয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁ চালু করা। হোটেল রেস্তোরাঁর জন্য রানিং ক্যাপিটাল হিসেবে এসএমই খাত থেকে এই খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থা করা, যা সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে জামানতবিহীন এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণ। হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক-শ্রমিকদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করোনার টিকা প্রদান করা। শ্রমিকদের মোবাইলে অথবা নির্দিষ্ট কার্ড দেওয়ার মাধ্যমে নগদ অর্থ অথবা মাসিকভাবে খাদ্যসাহায়তা দেওয়া। হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্পের মর্যাদা প্রদান করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে না রেখে একটি নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনা। এছাড়া ই-কমার্স টেকওয়ে, পার্সেল ও অনলাইন ডেলিভারির ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কমিশন করা এবং একটি সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়নপূর্বক তাদের নিয়ন্ত্রণ করা। সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এই খাতে ৮০ থেকে ৯০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। দেশের প্রচুর রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়েছে এবং বেশির ভাগ রেস্তোরাঁর মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে। মালিক সমিতির নেতারা বলেন, ‘আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনয়ের সঙ্গে এসব প্রস্তাবনা পেশ করছি। প্রধানমন্ত্রী দয়া করে এই সেক্টরের মানবিক দিক বিবেচনা করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন।’ সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি গাজী মো. ওসমান গনি, প্রধান উপদেষ্টা খন্দকার রুহুল আমিন, প্রথম যুগ্ম-মহাসচিব ফিরোজ আলম সুমন, যুগ্ম-মহাসচিব ফয়সাল মাহবুব, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ আন্দালিব, কোষাধ্যক্ষ তৌফিকুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।