মৃত্যু ১৪, আক্রান্ত ৮৫৩
হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী, সিলেট অফিস
সারা দেশের ন্যায় সিলেট বিভাগেও কঠোর লকডাউন চলছে। চলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি। মামলা হচ্ছে। জরিমানাও হচ্ছে। মানুষও চলছে বেসুমার স্বাস্থ্যবিধি না মেনে। করোনাও তার বিশাল তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। এক দিনেই এ বিভাগে আরো ১৪ জনের মৃত্যু ও ৮৫৩ জন আক্রান্ত হন। এর আগে সর্বোচ্চ ১৭ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়। এদিকে ‘অবস্থার উন্নয়ন ও মৃত্যু ঝুঁকি কমাতে টিকার বিকল্প নেই,’ মন্তব্য করে চিকিত্সকরা বলেন, ‘সেই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।’
অন্য দিকে এখন সিলেটের ঘরে ঘরে করোনা রোগী। গ্রাম-শহর থেকে উপসর্গ নিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে করোনা রোগী আসছেন হাসপাতালে। ফাঁকা নেই হাসপাতালগুলো। অক্সিজেন ও আইসিইউর তীব্র সংকট আগে থেকেই। করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে ঠেকে তা ভেবে সচেতন মহল অস্থির।
টিকার বিকল্প নেই
চিকিত্সকরা বলছেন, এই মূহূর্তে টিকার বিকল্প নেই। টিকা দেওয়ার হার বাড়াতে হবে। তারা বলছেন, টিকা গ্রহণকারীদের মৃত্যুর ঝুঁকি কম। এমন অভিমতের সঙ্গে একমত পোষণ করে ‘করোনা থেকে সুরক্ষার একমাত্র পথ টিকা,’ বলেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায়। তিনি বলেন, এর সঙ্গে মাস্ক ব্যবহারসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। নগরীর রাগীব রাবেয়া মেডিক্যালের করোনা আইসিইউর দায়িত্বরত চিকিত্সক শাকিলুর রহমান বলেন, গত কিছু দিনে ৩১ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর তথ্য নিয়ে দেখলাম ১৭ জন টিকা নেননি। তার মধ্যে ১৪ জনকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসতে হয়। এর মধ্যে ছয় জন মৃত্যুবরণ করেন। তাদের বয়স ৫০-৭০-এর মধ্যে। অপর তিন জন বাড়িতে বসেই সুস্থ হন। তাদের বয়স যথাক্রমে ৩৫, ২৭, ২৪ বছর। অপরদিকে টিকা নেওয়া ১৬ জনের মধ্যে মাত্র একজনের আইসিইউর প্রয়োজন হয়।
সিলেটের একমাত্র করোনা ডেডিকেটেড ডা. শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিত্সা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সৈয়দ নাফি মাহদি বলেন, গত শনিবার হাসপাতালে মোট ভর্তি ছিলেন ১০২ জন। এর মধ্যে ৯০ শতাংশই টিকা নেননি। এমনকি আইসিইউতে ভর্তি ১৬ জনের ১৪ জনেরই টিকা নেওয়া হয়নি।
টিকা নিতে নারীরা পিছিয়ে
সূত্রমতে, সিলেট নগরীতে নারীদের চেয়ে বেশি টিকা নিয়েছেন পুরুষরা। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম সুমন জানান, পর্যালোচনায় দেখা যায় ৬০ ভাগ পুরুষ ও ৪০ ভাগ নারী টিকা গ্রহণ করছেন।
১২ আগস্ট পর্যন্ত টিকার নিবন্ধন বন্ধ
সিলেটে টিকা নিবন্ধন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয় আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর থেকে আবারও টিকা নিবন্ধন শুরু হবে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয় সিলেটের কর্মকর্তারা বলেন, সিলেটে প্রায় ৩৬ হাজারের মতো মানুষ নিবন্ধন করেছে টিকার জন্য। তাদের এখন পর্যায়ক্রমে টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার দুই কেন্দ্রে প্রায় ১ হাজার ২০০ জনের মতো মানুষকে টিকা দেওয়া হচ্ছে।
