নারায়ণগঞ্জে করোনা পরীক্ষায় ভিড়, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ২১:৫৪

সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

রিফাত হোসেনের হালকা জ্বর হয়। জ্বরের পর থেকে সর্দি, কাশি। প্রথমে তিনি মৌসুম পরিবর্তনে এমনটা হতে পারে ভেবে নেন। বাড়ির নিকটবর্তী ফার্মেসি থেকে সাধারণ জ্বরের ওষুধ খেলেও শরীরের পরিবর্তন না হওয়ায় চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী করোনার টেস্ট করাতে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে এসেছেন। এসেই সম্মুখীন হয়েছেন বৃষ্টির মধ্যে লম্বা লাইনের। দীর্ঘক্ষণ লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় শারীরিক দুর্বলতা বৃদ্ধি পেলে পরীক্ষা না করিয়েই বাড়ি ফেরেন তিনি। ৩০০ শয্যা হাসপাতাল পরিদর্শন করে দেখা যায়,  রিফাত হোসেন শুধু একা নন, তার মতো অনেকেই নমুনা দিতে এসে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কেউ আবার দাঁড়ানো থেকে বসে পড়েন। মানুষের চাপে ছাউনির বাইরে দীর্ঘ লাইন। কখনো প্রবল বৃষ্টি, কখনো প্রচণ্ড রোদ। এদিকে নেই সামাজিক দূরুত্ব। নেই স্বাস্থ্য সুরক্ষা। পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় লাইনে শৃঙ্খলা আনা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ পরিস্থিতিতে সংক্রমণর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

মাদ্রাসার শিক্ষক নাসিমা লাইন ছেড়ে গাছের নিচে গিয়ে বসেছেন। তার সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি বলেন, ‘শরীরের অবস্থা ভালো না। কয়েক দিন পরে অপারেশন করাব। ডাক্তার বলছেন, অপরেশন করার আগে করোনা নেগেটিভ থাকতে হবে। সেই কারণে আসছি। দুই ঘণ্টা যাবত্ লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। সিরিয়ালটা একজনরে দেখতে বলে এখানে এসে বসছি। মানুষের যে অবস্থা, কেউ কেউ টেস্ট করতে এসেও মুখে মাস্ক পরেননি। ঘেঁষে ঘেঁষে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে আছে। কার আগে কে টেস্ট করাবে প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। এভাবে সিরিয়ালে দাঁড়ালে যার করোনা হয়নি, তারও টেস্ট করাতে এসে করোনা হতে পারে।’ সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা আলেয়া বেগম বলেন, ‘আমার ছোট মেয়ের কয়েক দিন ধরে শরীরে অনেক জ্বর। তিন মাস আগে তার বাবা করোনায় মারা গেছেন। এখন মেয়েটারও যদি কিছু হয়, এ কারণে আর অপেক্ষা করিনি। পরীক্ষা করাতে নিয়ে আসছি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে মেয়েটা আরো অসুস্থ হয়ে গেছে।’ বন্দরের ইস্পাহানী এলাকার বাসিন্দা কাসেম সরকার বলেন, ‘কয়েক দিন পূর্বে তিন বন্ধু করোনা টেস্ট করাতে এসেছিলাম। ওদের নেগেটিভ হলেও আমার পজিটিভ এসেছে। তাই ডাক্তারের পরামর্শে বাড়িতেই চিকিত্সা নিয়েছি। এখন দ্বিতীয় টেস্ট করার জন্য এসেছি। অনেক মানুষ যেভাবে দাঁড়িয়েছে এখানে, মনে হচ্ছে শরীরে এখন ভাইরাস না থাকলেও ভাইরাস নিয়ে বাড়ি যেতে হবে।’

 হাসপাতালে আগত ভুক্তভোগীরা বলেন, ‘করোনা মহামারির এক বছর হয়ে গেল। গত বছর শুরুর দিকে করোনার নমুনা পরীক্ষা করাতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার কথা শুনেছি, পত্রিকায়ও নানা রকম ভোগান্তির কথা পড়েছি। ভোগান্তির পুরোনো চিত্রই রয়ে গেছে! হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা করাতে গিয়ে আগের মতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। আবার অনেকেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষা করার জন্য নমুনা দিতেও পারছেন না।’ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল বাশার এ বিষয়ে বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে পরীক্ষার জন্য নমুনা দিতে আসা রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। হাসপাতালে যে পরিমাণ রোগীর টেস্টের জন্য ব্যবস্থাপনা রয়েছে, রোগী আসছে দ্বিগুণেরও বেশি। তবে রোগীদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব মেনে সিরিয়াল করার জন্য ব্যবস্থা করা হবে।