রূপগঞ্জে কারখানায় আগুন
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাশেম ফুডস লিমিটেডের কারখানায় আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া ৪৮ জনের মধ্যে ৪৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক শাখা। বাকি তিন জনের পরিচয় চলতি সপ্তাহেই জানা যাবে। ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল হাতে এলেই সিআইডি মরদেহগুলো নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করবে। জেলা প্রশাসন সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের টাকাসহ লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে বলে গতকাল সোমবার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত ৮ জুলাই রূপগঞ্জের হাশেম ফুড কারখানায় আগুনে পুড়ে ৫১ জনের মৃত্যু হয়। নিহত তিন ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় তখনই স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। বাকি লাশগুলো আগুনে এতটাই পুড়ে যায় যে দেখে চেনা বা শনাক্ত করার উপায় ছিল না। পরিচয় শনাক্ত না হওয়া লাশগুলো ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে।
সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন জানান, ‘আগুনে পোড়া ৪৮টি লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে নিহতদের পরিবারের ৬৬ জন স্বজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তার মধ্যে থেকে এরই মধ্যে ৪৫ জনের লাশ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। এদের মধ্যে ৩০ জন নারী ও ১৫ জন পুরুষ। বাকি তিন জনের লাশ শনাক্তের কাজ চলছে। ’
সিআইডির নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও তদন্ত প্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত কাজ করছি। যার কাছ থেকে যা যা তথ্য পেয়েছি সবগুলো গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে তদন্ত কাজ করছি। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ গতকাল জানান, ‘সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ লাশের পরিচয় শনাক্ত করেছে কি না, সেটি আমাকে এখনো জানানো হয়নি। সিআইডি ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করে আমাদের কাছে লাশ হস্তান্তর করলে আমরা এক জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে বুঝে নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করব।’ লাশ দাফনের জন্য মৃত ব্যক্তির পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
হাশেম ফুডের কারখানায় আগুনে পুড়ে ৫২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় রূপগঞ্জ থানার ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে কারখানার মালিক আবুল হাশেম, তার চার ছেলেসহ আট জনের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। ঐ মামলায় গত ১০ জুলাই আবুল হাশেম, তার চার ছেলেসহ আট জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে মামলাটি নিবিড় তদন্তের জন্য আপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এদিকে স্বজনরা লাশ বুঝে না পেলেও হাশেম ফুড বেভারেজের মালিক আবুল হাশেম ও তার চার ছেলে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। হাশেম ফুডসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহান শাহ আজাদ, উপ-মহাব্যবস্থাপক মামুনুর রশিদ, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বর্তমানে কারাগারে।
