অনেক খেলা খেলে স্প্রিন্টে এসেছিলেন রাজা জ্যাকবস

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ২২:৩৯

স্পোর্টস রিপোর্টার

ইতালিতে এখন ডাবল আনন্দ। ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে ইতিহাসে প্রথম কোনো ইতালিয়ান স্প্রিন্টার মার্চেল জ্যাকবস। টোকিও অলিম্পিকে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে বিশ্বসেরা খেতাব জয় করেছেন জ্যাকবস। স্প্রিন্টের মুকুট তার মাথায়। সময় নিয়েছেন ৯.৮০ সেকেন্ড। ইউরোপে প্রথম গ্রেট ব্রিটেনের লিনফোর্ড ক্রাইস্ট ১৯৯২ বার্সেলোনায় পদক জিতেছিলেন। প্রথম কোনো ইতালিয়ান, পিয়েত্রো মিনেয়া ২০০ মিটারে স্বর্ণ জিতেছিলেন ১৯৮০ সালে, রাশিয়ার মস্কোতে। এবার টোকিও অলিম্পিকে জ্যাকবস হচ্ছে প্রথম কোনো ইতালিয়ান যিনি ১০০ মিটার স্প্রিন্টারে স্বর্ণ জিতে ইতিহাস গড়েছেন। অথচ এই মার্চেল জ্যাকবস ক্রীড়াবিদ হওয়ার জন্য জীবনে কত চেষ্টাই না করেছেন।

মার্চেল জ্যাকবসের মা ভিভিয়েনা বলেছেন জ্যাকবসের বাবা ছিলেন ইউএস আর্মি। তার সঙ্গে আমার দেখা হয় ইতালির একটি শহরে। আমার বয়স তখন ১৬ আর জ্যাকবসের বাবার বয়স ১৮। আমাদের মধ্যে বিয়ে হয়। আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে চলে যাই। বিয়ের তিন বছর পর জ্যাকবস জন্মগ্রহণ করে, টেক্সাসের এল পাসোতে, ১৯৯৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। এরই মধ্যে ওর বাবার চাকরি ট্রান্সফার হয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় চলে গেলে আমার সঙ্গে দূরত্ব শুরু হয়। আমরা এক সঙ্গে থাকতে পারছিলাম না। আমি ফিরে আসি ইতালিতে। জ্যাকবসের বয়স এক মাসও না।

জ্যাকবস বলেছেন, আমি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলেও আমার শরীরের সেলগুলোতে সবই ইতালির। আমি যখন যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চাইলাম তখন আমাকে বলা হয়েছিল—আমি ইংরেজি বলতে পারি না। ইংরেজি শিখতে আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছিল।’   

জ্যাকবসের ভেতরে ক্রীড়াবিদ হওয়ার নেশা ছিল। যে কোনো ভাবেই হোক ক্রীড়াবিদ হতে হবে। বাস্কেটবল হতে জিমন্যাষ্টিকস সবই খেলেছেন। এমনকি একটা সময় ফুটবল খেলেছেন জ্যাকবস। তার মা সব সময় সন্তানকে বুঝাতেন এত কিছুতে মন দিও না জ্যাকবস। যে কোনো একটা বেছে নাও। জ্যাকবস ঘুমিয়ে থাকলেও এসব কথা বলে বলে ক্লান্ত হয়ে যেতেন জ্যাকবসের মা ভিভিয়েনা। জ্যাকবসের স্কুল শিক্ষণের সময় অ্যাথলেটিসকে গিয়ে লংজাম্পে নামেন। সেখানে দারুণ পারফরম্যান্স দেখান। ২০১৮ সালে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে তাক লাগিয়ে দেন। এর পর থেকে বাড়ির পাশে ১০০ মিটার স্প্রিন্টের অনুশীলন শুরু হয়। লকডাউনে পুরো সময়টা কাজে লাগিয়েছেন। তার স্ত্রী তিন সন্তান পুরো পরিবার জ্যাকবসকে উজ্জীবিত করেছে। এ বছর ইতালিতে প্রথম ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ৯.৯৫ সেকেন্ড সময় নেন। এটাই তাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে টোকিও অলিম্পিকে কিছু করবেন। জ্যাকবস বলছেন, ‘উসাইন বোল্ট নেই বলে আমার কাছে মনে হয়েছে এবার একটা সমলড়াই হবে। স্বর্ণ জয়ের সুযোগ।’