লকডাউন নয়, স্বাস্থ্যবিধিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ২২:৪১

অব্যাহতভাবে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আজ মঙ্গলবার বৈঠকে বসছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকরা। বেলা ১১টায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনলাইনে আন্তঃমন্ত্রণালয় এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

একাধিক নীতিনির্ধারক বলছেন, লকডাউন কিংবা বিধিনিষেধে কড়াকড়ি আরোপ করে প্রকৃতপক্ষে কোনো লাভ হচ্ছে না। বরং মানুষের মধ্যে এসব বিধিনিষেধ না মানার প্রবণতা প্রবলভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অর্থনীতি, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। এরকম বাস্তবতায় সরকারের নীতিনির্ধারকরদের কেউ কেউ মনে করছেন চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ না করে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে মানুষকে সচেতন করা ও এক্ষেত্রে প্রয়োজনে অতিমারি আইনের প্রয়োগ করা গেলে ইতিবাচক ফলাফল লাভ করা সম্ভব। পাশাপাশি সবাইকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা জরুরি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিংবা দেশীয় চিকিত্সক মহলও মনে করেন, করোনায় মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহারসহ এ সংক্রান্ত যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে করোনা থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। এমনকি টিকা গ্রহণ করলেও এই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিত্সকরা।

জানা গেছে, বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানো না হলে মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করার জন্য অতিমারি আইনের প্রয়োগ করা হতে পারে। এই আইনে ১০ হাজার টাকা জরিমানাসহ গ্রেফতার ও জেলের ব্যবস্থা রয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১২ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, ১৬ জন সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, আইইডিসিআর পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেবেন। ইতিমধ্যেই সভায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গতকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, ঐ সভায় বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুপারিশগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ আলাপ-আলোচনা করে করণীয় নির্ধারণের বিষয় চূড়ান্ত করে তা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ৫ আগস্টের পর আরো সাত দিনের জন্য বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষেও রয়েছেন নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ। যদি তা করা হয় সেক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি অফিস সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়া হতে পারে। সীমিত পরিসরে চালু করা হতে পারে গণপরিবহন। রপ্তানিমুখী শিল্প-কলকারখানা তো চালু করা হয়েছে, সেটি চালু থাকবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উল্লেখ্য, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে চলমান বিধিনিষেধ আরো ১০ দিন বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে। গত ২৩ জুলাই থেকে আগামী ৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এটি কার্যকর করতে মাঠে নামানো হয় সেনাবাহিনী, পুলিশ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, আনসার ভিডিপি, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। গত ঈদের আগে ফেরি-ট্রেন-লঞ্চ বন্ধ রেখেও ঘরমুখো মানুষকে ঠেকিয়ে রাখা যায়নি। আবার ঈদের পর পরেই পোশাক শিল্প কারখানা খুলে দেওয়ার ঘোষণায় সড়ক-মহাসড়কসহ রাজধানীতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে বিধিনিষেধ খানিকটা অকার্যকর হয়ে পড়ে।