নদীভাঙনে শিবগঞ্জে বাড়িঘর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন হবার আশঙ্কা

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ২২:৪৬

শিবগঞ্জে বেশ কয়েক দিন থেকে পদ্মা-মহানন্দা নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে ব্যাপকহারে নদীভাঙন হচ্ছে। এতে বাড়িঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্লভপুর ইউনিয়নের রামনাথপুর, মনোহরপুর, নামো জগন্নাথপুর, আইউব বিশ্বাসপাড়া, দোভাগীসহ কয়েকটি পয়েন্টের প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকা ভাঙনের কবলে পড়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, পদ্মা-মহানন্দা নদীর ভাঙন ঠেকাতে এখনই ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের তরফা ঘাট এলাকায় মহানন্দা নদীতে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ২২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আলাতুলি এলাকার রক্ষা প্রকল্প বাঁধের শেষ অংশ।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত তিন বছরে প্রায় ৮ কিলোমিটার নদী ভেঙেছে এই এলাকায়। বর্তমানে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে। নদীভাঙনের ফলে ছয়টি প্রতিষ্ঠান নদী থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে রয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে বা জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সবই নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। হুমকির মুখে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো, চর জগনাথপুর কারিগরি দাখিল মাদ্রাসা, বাদশাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরহাসানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাবুপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া ঐ এলাকার কয়েক শতাধিক বাড়ি-ঘর রয়েছে চরম হুমকির মুখে।

দুর্লভপুর গ্রামের স্থানীয়রা জানান, আমাদের এলাকায় নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিগত দিনে চরজগন্নাথপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, জগন্নাথপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরহাসানপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ বহু বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখনই নদীভাঙন ঠেকাতে না পারলে পুনরায় সব বিলীন হয়ে যাবে।

শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজিব রাজু জানান, দুর্লভপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের পদ্মা নদীতে বেশ কয়েক বছর ধরেই ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। আমি এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড, এমনকি বিভাগীয় পর্যায়েও দরখাস্ত দিয়ে জানিয়েছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা একবার এসে পরিদর্শন করে গেলেও নদীভাঙন প্রতিরোধে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

মোবাইল ফোনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, নদীভাঙন বিষয়ে বিস্তারিত জেনে জানাবেন বলে জানানো হয়।