করোনা সংকটের মধ্যেও বেড়েছে চাল উত্পাদন

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২১, ২২:৫২

করোনা সংকটের এ সময়েও দেশে চাল উত্পাদন বেড়েছে। গত বছর মার্চে দেশে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর দুই বোরো মৌসুমেই ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত আউশ, আমন মৌসুমে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে আবাদ কিছুটা মার খেলেও মোট উত্পাদন আগের অর্থবছরকেও ছাড়িয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, গত কয়েক বছরের মধ্যেই এখন দেশে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ধান-চাল উত্পাদন হচ্ছে। তবে উত্পাদন বাড়লেও তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চালের দামও। বর্তমানে রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল ইরি-স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়। যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

২০২০-২১ অর্থবছরে আউশ, আমন ও বোরো মিলিয়ে মোট ধান উত্পাদন হয় ৩ কোটি ৮৫ লাখ ২১ হাজার ২৬২ টন। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট চাল উত্পাদন হয় ৩ কোটি ৬৬ লাখ টন। অর্থাত্ মোট উত্পাদন বেড়ে দাঁড়ায় ১৯ লাখ ২১ হাজার ২৬২ টন।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, চাল উত্পাদন বাড়ার ক্ষেত্রে এ খাতে সরকারের ধারাবাহিকভাবে ভর্তুকি ও প্রণোদনা বড় ভূমিকা রাখছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছর মার্চে করোনা শুরুর সময় মাঠে ছিল বোরো। কিন্তু সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে বোরো ঘরে তোলা হয়। উত্পাদনও ভালো হয়। কিন্তু এর পরই দীর্ঘস্থায়ী বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে আউশ ও আমন কিছুটা মার খায়। তবে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া হয় চলতি বছরের বোরো মৌসুমে। এ বছর বোরোতে রেকর্ড পরিমাণ চাল উত্পাদন হয়েছে। এছাড়া আউশ কাটা সম্প্রতি শেষ হয়েছে। পুরো হিসাব পাওয়া না গেলেও ফলন ভালো হয়েছে। আর মাঠে আছে আমন। যদি গত বছরের মতো এবার বন্যা না হয় তাহলে বোরোর মতো আমনেও বাম্পার ফলন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫৬ লাখ ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়। চাল উত্পাদন হয় ১ কোটি ৪৪ লাখ ৩৭ হাজার টন। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৫ লাখ ৫৯ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়। চাল উত্পাদন হয় ১ কোটি ৪২ লাখ টন।আর ২০১৯-২০ অর্থবছরে আউশ আবাদ হয় ১০ লাখ ৯৫ হাজার হেক্টর জমিতে। চাল উত্পাদন হয় ২৭ লাখ ৫৫ হাজার টন। ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৩ লাখ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদ হয়। চাল উত্পাদন হয় ৩২ লাখ ৮৪ হাজার টন। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৩ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ আবাদ হয়। চাল উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার টন। এদিকে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বোরো উত্পাদনে। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে বোরো আবাদ হয় ৪৭ লাখ ৬২ হাজার হেক্টর জমিতে। চাল উত্পাদন হয় ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪৫ হাজার টন। আর ২০২০-২১ অর্থবছরে ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার হেক্টর জমিতে রেকর্ড পরিমাণ ২ কোটি ৮ লাখ ৮৫ হাজার ২৬২ টন চাল উত্পাদন হয়েছে।

বোরোর উত্পাদন বাড়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে হাইব্রিডের আবাদ। করোনা মহামারিরর এ সময়ে ফসলের উত্পাদন  বাড়াতে গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে হাইব্রিডের আবাদ করা হয়। এছাড়া উচ্চ ফলনশীল ধানের প্রচলন ও সম্প্র্রসারণও বেশি হয়েছে। 

উত্পাদন বাড়লেও চালের দাম বাড়ছে

গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে চালের উত্পাদন বাড়লেও তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দামও। বর্তমানে রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল ইরি/স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়। মাঝারি মানের ও সরু চালও বর্তমানে গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছে ভোক্তারা।

সরকারের বিপণন সংস্থা টিসিবির হিসেবে বর্তমানে বাজারে মাঝারি মানের চাল পাইজাম/লতা ৫০ থেকে ৫৬ টাকা ও সরু চাল নাজিরশাইল/মিনিকেট ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সংস্থাটির হিসেবেই, গত এক বছরে মোটা চালের দাম ১১ দমমিক ৭৬ শতাংশ, মাঝারি মানের চাল ৬ শতাংশ ও সরু চালের দাম ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়েছে।