নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড ট্রাফিক বক্সে পুলিশের ওপর বোমা হামলা চেষ্টার ঘটনায় জড়িত নব্য জেএমবির দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ। রবিবার দিবাগত রাতে যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, শফিকুর রহমান হূদয় ওরফে বাইতুল্লাহ মেহসুদ ওরফে ক্যাপ্টেন খাত্তাব ও খালিদ হাসান ভূইয়া ওরফে আফনান। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪০০ গ্রাম লাল রঙের বিস্ফোরক জাতীয় পদার্থ, তিনটি বিউটেন গ্যাসের ক্যান, একটি মোটরসাইকেল, এক সেট রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইসসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও সিটিটিসির প্রধান মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সিটিটিসি প্রধান বলেন, সম্প্রতি দেশে জঙ্গিবাদী প্রত্যক্ষ কোনো অপতত্পরতা লক্ষ্য করা না গেলেও অনলাইনে তাদের তত্পরতা আগের তুলনায় বেড়েছে। যদিও নগরবাসীর উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কোনো ঘটনা ঘটার আগেই জঙ্গি সদস্যদের গ্রেফতার করছে সিটিটিসি।
তিনি আরো বলেন, সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সোয়াট টিম যৌথ অভিযানে গত ১১ জুলাই নারায়ণগঞ্জ আড়াইহাজার থানার নোয়াগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে নব্য জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জামাদিসহ গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাইনবোর্ড ট্রাফিক বক্সে পুলিশের ওপর বোমা হামলার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত শফিকুর ও খালিদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।
আসাদুজ্জামান বলেন, নব্য জেএমবির আমির মাহাদী হাসান জন ওরফে আবু আব্বাস আল বাঙালির নির্দেশে গত ১৬ মে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সাইনবোর্ড ট্রাফিক বক্সে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালায়। ক্রটিপূর্ণ রিমোটের কারণে কয়েকবার চেষ্টা করেও বোমাটি বিস্ফোরণে ব্যর্থ হয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আর রিমোটটি রাস্তার পাশে ফেলে চলে যায়। পরে খবর পেয়ে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে।
